আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:৩৪

চিনে নিন এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামটিকে

বিডিটাইমস ডেস্ক
চিনে নিন এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামটিকে

কেমন হতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন গ্রাম?

যেখানে প্লাস্টিকের কোনো সামগ্রী দেখা যাবে না। থাকবে সুবিন্যস্ত সবুজ গাছপালা, রাস্তাঘাটও তকতকে ঝকঝকে। ময়লা আবর্জনাতো দূরের কথা গ্রামের চারদিকেই থাকবে ফুলের বাগান!

সত্যিকারের এমন একটি গ্রামের কথা তবে জানুন-

গ্রামটির নাম ‘মাওলিনং’

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এ গ্রামে খাসিয়া উপজাতিদের বসবাস। এরা মাতৃতান্ত্রিক সমাজে বাস করে। তাই মায়ের সম্পদের একমাত্র উত্তরাধিকারী হন সবচেয়ে ছোট মেয়েটি। মায়ের নামের পদবি গ্রহণ করে সন্তানরা। গ্রামটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত।

যেভাবে গ্রামটি বিখ্যাত হয়ে উঠলো

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

২০০৩ সাল পর্ন্ত ঐ গ্রামে যাওয়ার কোনো সড়ক ছিলো না। শুধুমাত্র পায়ে হেঁটেই যেতে হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামটি বিখ্যাত হয়ে উঠার কারণ হলো, গ্রামের ব্যতিক্রমধর্মী পরিচ্ছন্নতা। ভারতের অন্যসব রাজ্যের শহরগুলো থেকে যা একেবারেই আলাদা।

গ্রামের কোনায় কোনায় দেখা মিলবে বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন। তাই যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলানো একেবারেই নিষিদ্ধ। গ্রামে নিয়োজিত আছে সেচ্ছাসেবক টিম। তারা গ্রামটির সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়মিত ঝাড়ু দেন।

গ্রামের বাসিন্দা বনিয়ার মাওরোহ নিজের গ্রাম সম্পর্কে গর্ব করে বলেন, ‘আমরা আমাদের গ্রামকে প্রতিদিন পরিষ্কার করি। কারণ, আমাদের দাদা-দাদি ও পূর্ব-পুরুষরা আমদের শিখিয়েছে কীভাবে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হয়। কারণ, পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’

১২ বছর আগে এ গ্রামে প্রথম সড়ক নির্মিত হয়। তারপর ডিসকোভার ইন্ডিয়া নামে একটি ট্রাভেল ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক এসে ঘুরে যান। তার লেখা একটি নিবন্ধে গ্রামটিকে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এরপরই যেন দর্শণার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে গ্রামটিকে ঘিরে।

ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ২৫০ পর্যটক এ গ্রামে বেড়াতে যান। গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ক্রমেই, খ্যাতির বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয় মাওলিনং।

গ্রামের একটি অতিথিশালার মালিক ৫১ বছর বয়সী রিশোত খোংথোহরেম বলেন, ‘এখানে এখন শব্দ দূষণ চলে। আমি গ্রাম পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। গ্রাম থেকে আরও দূরে নতুন একটি গাড়ি পার্ক করার স্থান নির্মাণে সরকারের কাছে আবদার জানিয়েছি আমরা।

খোংথোহরেম বলেন, ‘খ্রিষ্টান মিশনারিজ আমাদের পূর্বসূরিদের বলেছিল, তোমরা কলেরা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবে, যদি ভালোভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারো। ঘরে-বাইরে, জমিতে, গ্রামে, নিজের দেহে কিংবা খাবার গ্রহণের বেলায় - সবসময়ই পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে।’

এরপর থেকে মাওলিনং গ্রামে এমন খুঁতখুঁতে অভ্যেস প্রতিষ্ঠা পায়। ফলে গ্রামটির ভিন্ন অর্জনও বেড়েছে। প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ যেখানে প্রত্যন্ত ভারতে স্বাভাবিক বিষয়, সেখানে এ গ্রামের ৯৫টি বাড়ির সব কটিতে টয়লেট রয়েছে।

মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক কর্মকর্তা দীপক লালু বলেন, ‘এখানে সামাজিক জীবনে কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই। কিন্তু দেখা যায়, এক নারী হয়তো গোসল করছে, পর্যটকরা তার ছবি তুলে ফেলছে। যে সামাজিক বন্ধন গ্রামটিকে এক করে রেখেছে, এভাবে তা নষ্ট হচ্ছে।’

জানা যায়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মাওলিনং গ্রামে এতটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয় ১৩০ বছর আগের একটি কলেরা মহামারি থেকে। তখন গ্রামে ছিল না কোনো স্বাস্থ্য সুবিধা। এ কারণেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকেই কলেরা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে।

একটি রেডিও ভাষণে এ গ্রামের প্রশংসা করেছেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি বলেন, আমি জেনে চমৎকৃত হয়েছি, উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ে এমন একটি প্রত্যন্ত গ্রাম আছে, যেটি বছরের পর বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আসছে। এমন অর্জন নিয়ে মাওলিনং গ্রাম নিশ্চয়ই গর্বিত। অনেকে তবে মনে করেন, বাসিন্দাদের মঙ্গলের জন্য এ গ্রামে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করতে হবে। পর্যটক বিশেষজ্ঞ লালু বলেন, তাদের অবশ্যই পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানতে হবে। একটা পর্যায়ের পর ‘না’ বলতে পারতে হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে