আপডেট : ১০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:১৪

উত্তর কোরিয়ার ১২টি তথ্য জেনে পিলে চমকান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর কোরিয়ার ১২টি তথ্য জেনে পিলে চমকান!

পৃথিবীর দুর্গম কয়েকটি দেশের নাম যদি বলা হয় তবে সবার প্রথমেই আসবে উত্তর কোরিয়ার নাম। হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়ে সম্প্রতি এ দেশটিই আবারো সারা পৃথিবীর সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।

কয়েক দশক ধরেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্কের পর বিতর্কে জড়িয়েছে সে দেশের লাল শাসকেরা। আর দেশের মধ্যে কী ঘটে? চরম গোপনীয়তার পাঁচিল ডিঙিয়ে প্রায় কিছুই বাইরে আসা না। বহির্বিশ্বের ‘হাওয়া’ ঢোকাও সে দেশে নিষিদ্ধ। তবু ফাঁক ফোকর গলে যে’টুকু বাইরে আসে, তা শুনলে আপনি কেবল অবাকই হবেন না, মাঝে মাঝে আপনার শরীর হীম হয়ে যাবে। এবার আগ্রহ থাকলে পড়ুন, দেশটি সম্পর্কে আপনার অজানা কিছু খবর।

১. দেশটিতে যদি কাউকে দেখা যায় বাইবেল রয়েছে তার কাছে বা কাউকে যদি পর্নোগ্রাফি দেখার সময় হাতেনাতে ধরা হয় তাহলে আর তার রক্ষে নেই। মৃত্যুই তখন তার একমাত্র শাস্তি!

২. সপ্তাহে ৫ দিনের পরিবর্তে আপনাকে ছ’দিন কাজ করতে বললে আপনি হয়তো মুখ ভার করে বসে থাকবেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় সাতদিনই কাজ করতে হয়! ছ’দিন অফিসের পর যদি জোড় করে আপনাকে সমাজসেবা করতে পাঠানো হয়?
তাহলে কেমন লাগবে? ঠিক এটাই হয় উত্তর কোরিয়ায়। সব বাড়িতে বসানো রয়েছে সরকারি রেডিও। যা ২৪ ঘণ্টা চলে। বন্ধ করার নিয়ম নেই!

৩. গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই দেশটিতে। কয়েক দশক ধরে এখানে চলছে মিলিটারি শাসন।

৪. পুরো দেশে ৮ জুলাই ও ১৭ ডিসেম্বর কোনও উৎসব হয় না। সামান্য জন্মদিনও পালন করার অনুমতি নেই এই দুই দিবসে। কারণ কিম-২ ও কিম জং-২ দুই রাষ্ট্রনেতা প্রয়াত হয়েছিলেন এই দিনে।

৫. সরকারি আমলা ও মিলিটারি অফিসিয়ালরা ছাড়া এই দেশে কারও নিজের গাড়ি রাখার নিয়ম নেই। ভিআইপিরা ছাড়া কোনও সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষমতা নেই। রেড স্টার বলে নিজেদের সিস্টেম চলে ওখানে।

৬. ২.৫ লাখ উত্তর কোরিয়ান বন্দিদশা কাটাচ্ছেন। এই বন্দিদের একটি শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে যা ইলেকট্রিক তার দিয়ে ঘেরা। কোন পরিবারে কেউ একজন অপরাধ করলে সেই পরিবারের তিন প্রজন্মকে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

৭. গরিবদের ছবি তোলা নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ভ্রমণার্থীদের জন্য একেবারেই নয়।
উত্তর কোরিয়া মনে করে গরিবদের ছবি তুললে তাদের দেশ সম্পর্কে খারাপ তথ্য যাবে বাইরে। এছাড়াও টুরিস্টদের নিজের ইচ্ছায় যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অনুমতি নেই। সরকারি গাইড ছাড়া কোথাও যেতে পারবেন না তারা।

৮. উত্তর কোরিয়ার স্কুলে শুধু দেশের ইতিহাসের কথাই পড়ানো হয়। যেখানে কিম জং-১ ও কিম জং-২কে হিরো হিসেবে দেখানো হয়েছে।

৯. ২ হাজার মহিলাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘প্লেজার স্কোয়াড’। বোঝাই যাচ্ছে এই স্কোয়াডকে কী করতে হয়! দেশের সব পুরুষের জন্য রয়েছে অন্য ফতোয়া। সবাইকে কিম জং-উন এর চুলের স্টাইলে চুল রাখতে হবে।

১০. পুরো দেশে তিনটির বেশি টেলিভিশন চ্যানেল দেখা যায় না। ইচ্ছে করলেও অন্য কোনও চ্যানেল দেখার উপায় নেই। গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই দেশ। বাইরে কোনও সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিন, খবরের চ্যানেল কিছুই দেখার সুযোগ নেই উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের। শুধু স্থানীয় খবরই পড়ার সুযোগ রয়েছে তাদের।

১১. পাঁচ বছরে একবার ‘ভোট’ হয়। কিন্তু প্রার্থী তো এক জনই! কিমের ইচ্ছের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কে? তবে প্রার্থী পছন্দ না হলে ভোটারের তা জানানোর ‘অধিকার’ আছে। তবে তা প্রকাশ্যে করতে হবে।

১২. আপনি কি জামা-কাপড় ব্যবহার করবেন সেটাও ঠিক করা রয়েছে। ওখানে জিন্‌স পরা নিষিদ্ধ। শুধু পোশাক নয়, বাড়ির রং-ও হতে হবে ধূসর। সব বাড়িতে থাকতে হবে দেশের নেতাদের ছবি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে