আপডেট : ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ১৪:৪৭

বাবুর দাঁত ও মাড়ির সুস্থ্যতায়…

অনলাইন ডেস্ক
বাবুর দাঁত ও মাড়ির সুস্থ্যতায়…

বাবুর প্রথম দাঁত ওঠা বাবা-মায়ের জন্য খুব উত্তেজনার ঘটনা। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, বাবুর দাঁত ওঠার আগে থেকেই কিন্তু মাড়ির যত্ন নিতে হয়। চলুন জেনে নেই বাবুর মাড়ি ও দাঁত সুস্থ রাখতে কি করবেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদা খানম বলেন, "বেশীরভাগ বাবা মা-ই ভাবেন যে বাবুর দাঁত ওঠার পরেই আসলে মুখ পরিষ্কার বা দাঁত মাজা নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু আসলে তা নয়, বাবুর মুখের সুরক্ষা শুরু করা উচিৎ বাবুর জন্মের পর থেকেই।"

দাঁত পরিষ্কারের পদ্ধতি

কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন:

 · খেয়াল রাখবেন বাবু যেন দুধের বোতল মুখে নিয়েই ঘুমিয়ে না যায়। তাহলে মুখে দুধ জমে তা থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে।

· ফলের জুস বা শুকনো ফল খাওয়ালে পরে দাঁত মেজে দিতে ভুলবেন না যেন।

 · প্রতি তিন মাস পর পর টুথব্রাশ বদলাতে হবে।

 · দাঁত ব্রাশ করার আদর্শ সময় হলো দুই থেকে তিন মিনিট, তবে বাচ্চাদের জন্য সময় খানিকটা কমতে পারে।

 · বাচ্চা যখন ব্রাশ করছে তখন খেয়াল রাখবেন যেন বাচ্চা শুধু মুখেই ব্রাশ করে, ব্রাশ নিয়ে খেলাধুলা যেন না করে। আর ব্যবহারের পর ব্রাশ বাতাসে শুকাতে পারে এমন জায়গায় রাখতে হবে।

 · যদি বাবু বলে যে তার দাঁতে খাবার আটকে আছে তাহলে খুব সাবধানে টুথ ফ্লস দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করে দিতে হবে।

 মনে রাখবেন, ছোটবেলায় বাবুকে যা শেখাচ্ছেন তা যেমন তার ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে, তেমনি ছোটবেলায় তার দাঁতের যত্নই কিন্তু বড় হয়ে তাকে একসারি ঝকঝকে দাঁত উপহার দেবে।

চিকিৎসকদের মতে প্রতিবার খাওয়ানোর পরে একটি পরিষ্কার গজ বা পাতলা সুতী কাপড় পানিতে ভিজিয়ে বাবুর মাড়ি মুছে দেওয়া উচিৎ। এতে মুখে দুধ জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবে না। এতে আস্তে আস্তে বাবুও অভ্যস্ত হয়ে যাবে মুখ পরিষ্কার করা নিয়ে। তাই পরে ব্রাশ ব্যবহারেও আপত্তি করবে না।

 বাচ্চাদের দাঁত ওঠা শুরু হয় সাধারণত ৬ থেকে ৭ মাস বয়সে। কারো কারো ক্ষেত্রে দেরিও হতে পারে, এতে ভয় পাবার কিছু নেই। এই দুধ দাঁতগুলোই বাচ্চাদের শক্ত খাবার চিবাতে, কথা বলতে এবং বড় হয়ে ভালো দাঁত উঠতেও সাহায্য করে।

 দাঁত ওঠার আগে আগে বাবুদের মাড়িতে তৈরি হয় ছোট্ট একটি গর্ত, যা দাঁত বেড়ে উঠে ভরে যায়। এই গর্তটা আবার ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আদর্শ জায়গা। তাই নিয়মিত মাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। আর দাঁত ওঠার পর অবশ্যই নিয়ম করে দিনে দুবার দাঁত মাজতে হবে। সেক্ষেত্রে কাজটা করতে হবে খুব সাবধানে, যেহেতু ছোট বাবুদের দাঁত ও মাড়ি বড়দের চেয়ে অনেক সংবেদনশীল হয়। ব্যবহার করতে হবে বাচ্চাদের জন্য তৈরি নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ। আর ১৮ মাস বয়সের পর থেকে ব্যবহার করতে হবে শিশুদের বিশেষ টুথপেস্ট যাতে ফ্লুরাইড থাকে অনেক কম মাত্রাতে। কারণ ছোট বাচ্চারা ভালভাবে টুথপেস্ট ধুয়ে ফেলতে পারেনা। তাই স্বাভাবিক টুথপেস্টের অতিরিক্ত ফ্লুরাইড জমে থাকলে তা দাঁতে সাদা ছোপ ছোপ দাগ ফেলতে পারে। এজন্যে প্রথমে বাবা মায়েদেরই বাবুর দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে আর বাবুকে অনুশীলন করাতে হবে যতদিন পর্যন্ত না বাবু নিজে নিজে ব্রাশ করতে পারে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

উপরে