আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৫৩

প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে শিশুদের খেলনা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে শিশুদের খেলনা!

অবিশ্বাস্যভাবে দুই থেকে তিন বছর বয়সীদের এক চতুর্থাংশের মধ্যে কোন ঐতিহ্যগত খেলনা নেই, কিন্তু প্রতি তিনজনের মাঝে একজনের মধ্যে একটি করে মোবাইল ট্যাবলেট রয়েছে। এবং দুই থেকে বার বছর বয়সীদের মধ্যে দেখা গেছে, যেখানে আগে এক-তৃতীয়াংশ শিশুরা টেডি ছাড়া ঘুমাতে যেত না, সেখানে প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন ট্যাবলেট নিয়ে ঘুমাতে যায়।

ব্রিটিশ মিলিটারি ফিটনেস-এর করা এই জরিপে দেখা যায়, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা ঐতিহ্যগত পুরনো খেলনার চেয়ে প্রযুক্তিগত নতুন খেলনায় বেশী পারদর্শী। প্রতি দশজনের মধ্যে চারজন শিশুর ঘরে কোনো ফুটবল নেই কিন্তু একই সংখ্যক শিশু আবার ফিফা ১৬ খেলার জন্য প্লে-স্টেশন অথবা এক্সবক্স ব্যবহার করে।

দুই-তৃতীয়াংশ শিশু জানে কীভাবে সেলফি তুলতে হয় কিন্তু এক-তৃতীয়াংশ জানেই না কীভাবে সাইকেল চালাতে হয়। আর অর্ধেকের বেশি শিশু জানে না কীভাবে স্কিপিং (দড়ি লাফ) খেলতে হয় বা গাছে উঠতে হয়। গবেষণা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজন স্মার্টফোন ব্যবহারে পারদর্শী কিন্তু অর্ধেকই তাদের জুতার ফিতা বাঁধতে পারে না।

যখন দুই-তৃতীয়াংশ ক্যান্ডি ক্রাশ গেম-এর লেভেল পার করতে সক্ষম, অর্ধেক তখন জানে না কীভাবে ডয়ালওয়ালা দেয়াল ঘড়ি বা হাত ঘড়ি দেখে সময় বলতে হয়।

ফিটনেস দলটি ইস্টারের ছুটিতে শিশুদের ঘরের বাইরের খেলায় উৎসাহিত করতে চালানো এক প্রচারণায় জানায়, দুই সপ্তাহের ছুটিতে শিশুরা গড়ে ছয় দিন আঠারো ঘন্টা চল্লিশ মিনিট সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে এবং প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বাইরের উন্মুক্ত বাতাসের চেয়ে ঘরে বসে ফেইসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বা গেইম খেলতে পছন্দ করে। গবেষণা বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু বিদ্যালয়ে বা সামাজিকভাবে বন্ধু বানানোর চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বন্ধু বানাতে বেশি পছন্দ করে।

গবেষণায় প্রায় এক হাজার বাবা মা তাদের সন্তানদের কোনো অপরাধের জন্য শাস্তি হিসেবে তাদের গ্যাজেট নিয়ে নিচ্ছে।

ব্রিটিশ মিলিটারি ফিটনেস ট্রেনিং-এর প্রধান গ্যারি কের বলেন, “বর্তমানে শিশুরা অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ন দক্ষতা ছাড়া বড় হচ্ছে এবং আমাদের সময় থাকা ছোটবেলার বিভিন্ন ঘরের বাইরের খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

"আমরা ঘরের বাইরের ব্যায়াম থেকে প্রচুর মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের সুবিধা পেয়েছি, যার মধ্যে উন্নত মেজাজ, আত্মবিশ্বাস এবং শারীরিক ভাষার উন্নতি ছিল, সেইসঙ্গে দুশ্চিন্তার মাত্রাও কমিয়ে দিত। এইসব সুবিধা শুধু ঘরের বাইরে নিজের কুকুরকে নিয়ে হেটেও পাওয়া সম্ভব”, বলেন তিনি।

তিনি জানান, তারা শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ঘরের বাইরের খেলার জন্য উৎসাহিত করতে চান। সেই সঙ্গে তাদের বাবা-মাদের অনুরোধ করতে চান, তারা যাতে তাদের সন্তানরা সাতদিন কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে তাদের স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের ফল হবে তা ভেবে দেখেন।

 

উপরে