আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৬ ০৯:৫৮

এই গরমে নবজাতকের পোশাক

অনলাইন ডেস্ক
এই গরমে নবজাতকের পোশাক

চলে এসেছে বর্ষাকাল। কদমের দেখাও মিলছে চারদিকে। কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই কোথাও। তার বদলে আকাশ যেন গরম ঢেলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে। এমন সময়ে যখন বড়দেরই হাঁসফাস ধরে যাচ্ছে তখন ছোটদের কি অবস্থা হচ্ছে তা চিন্তার বাইরে। আর শিশু যদি হয় নবজাতক তাহলে তো কষ্টের কথা বলেও বোঝানো সম্ভব নয়।

গরম বা ঠাণ্ডা যাই হোক না কেন সব থেকে বেশি কষ্ট পায় নবজাতক। একে তো একদম নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যাপারটি থাকে, তার উপরে প্রকৃতির এই অনাচার সহ্য করা তাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে উঠে। এরকম সময়ে নবজাতকের সঠিক যত্ন না হলে সে নানা রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। যে কোন বৈরি পরিস্থিতিতে তাই নবজাতকের খাবার, গোসল, ঘুমের মত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে আবহাওয়া অনুযায়ী তার পোশাক পরানোর দিকটিতেও। যেমন এখনকার প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় তাকে এমন পোশাক পরাতে হবে যেন তার কষ্ট না হয়।

গরমে নবজাতকের পোশাক নির্বাচন করার আগে খেয়াল রাখবেন তাপমাত্রার উঠানামার প্রতি। আবহাওয়া খুব গরম এবং কমবেশি স্থির থাছে কিনা তা লক্ষ্য রাখুন। বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি মনে হলে যে ঘরে শিশু থাকবে সেই ঘরের তাপমাত্রা কম রাখার চেষ্টা করুন। ফ্যান বা এসি থাকলে তা কাজে লাগান। সেক্ষেত্রে বাচ্চার পোশাক হতে পারে সুতির কাপড়ের। সেই সাথে ঘরে এসি বা ফ্যান থাকলে বাচ্চাকে পাতলা কাথা বা কম্বল দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। যদি এসি বা ফ্যান না থাকে তবে বাসার সব থেকে ঠাণ্ডা ঘরটিতে নবজাতকের থাকার ব্যবস্থা করুন। সেক্ষেত্রে তার পোশাক হবে সুতি কাপড়ের একদম হাল্কা পোশাক। খুব একটা পেঁচিয়ে বা শক্ত করে সন্তানকে মুড়ে রাখবেন না। খোলামেলা থাকতে দিন। এতে সে আরাম পাবে।

তাপমাত্রার ব্যাপার নিশ্চিত হতে পারলে এবার পোশাক নির্বাচন করুন। গরমে সব নবজাতকের জন্য আদর্শ পোশাক বলে বিবেচিত হয় নিমা। এটি সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি একধরনের ফতুয়ার মত পোশাক। অনেকে নিমায় ফিতা ব্যবহার করেন, কেউ ব্যবহার করেন বোতাম। তবে নবজাতক যেহেতু অনেক বেশি নাজুক তাই তার পোশাকে বোতামের ব্যবহার তার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বোতামের বদলে ফিতা দিয়ে বাঁধা নিমার ব্যবহার করতে পারেন।

শিশুর পোশাক নির্বাচন করার সময় কাপড়ের রঙের দিকে খেয়াল রাখবেন অবশ্যই। পোশাকের রঙ সব সময় হালকা নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন। রঙ্গিন এবং গাঢ় কাপড় খুব সহজে তাপ টেনে নেয়। এতে শিশুর গরম বেশি অনুভুত হয়। তাই রঙ্গিন এবং গাঢ় কাপড়ের বদলে পাতলা এবং হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করুন এই গরমে।

গরমের সময় খুব দরকার না পড়লে ডাইপার ব্যবহার করবেন না। কারণ সিনথেটিক এই ন্যাপির ব্যবহারে শিশুর নিম্নাঙ্গে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। যেহেতু নবজাতকের ত্বক খুব বেশি নরম এবং নাজুক তাই র‍্যাশ থেকে অনেক সময় ঘা হয়ে গিয়ে রক্তপাতও হতে পারে। তাই খুব দরকার না পড়লে শিশুকে খোলামেলা রাখার চেষ্টা করুন। দরকার পড়লে কাপড়ের তৈরি ন্যাপি ব্যবহার করুন।

গরমের সময় আর সবার মত নবজাতকেরও অনেক ঘাম হবে। তাই একটু পরপর শিশু ঘামছে কি না তা লক্ষ্য রাখুন। ঘেমে গেলে তৎক্ষণাৎ শিশুর ঘাম মুছে দিন এবং পোশাক সাথে সাথে পরিবর্তন করে দিন। ঘাম মুছে দিলেন কিন্তু ঘামের পোশাক যদি গায়ে রেখে দেন তবে কিন্তু উপকারের থেকে অপকারটাই বেশি হবে আপনার সন্তানের। ভেজা কাপড় গায়ে থাকলে শিশুর বুকে ঠাণ্ডা বসে যাবে। ফলে শিশু জ্বর, কাশি, সর্দি সহ নানা ঠাণ্ডা জাতীয় রোগের শিকার হতে পারে। তাই গরমে কিছুক্ষণ পরপর পরনের কাপড় বদলে দিতে হবে।

পরনের কাপড় বদলে নিয়ে নোংরা কাপড় তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার করে ফেলুন। বারবার পরিষ্কার করতে না পারলে যেদিনকার কাপড় সেদিন ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। ধোয়া হয়ে গেলে অন্তত একবার অ্যান্টিসেপ্টিক মেশানো পানিতে কাপড় ডুবিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।

এভাবে গরমের সময়ে শিশুর অন্যান্য দরকারের পাশাপাশি পোশাকের দিকে খেয়াল রাখলে নবজাতকের সমস্যা অনেকাংশে কম হবে এবং সুস্থ থাকবে আপনার শিশু।

উপরে