আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩৯

৩৫’র দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
৩৫’র দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবিতে আবারো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। তারা বলছেন, সরকার চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক হলেও একটি মহল তা ঝুলিয়ে রাখছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ ব্যাপারে দুই দফা সুপারিশ করেছে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোন কার্যকর কিছু দৃশ্যমান নয়।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের নেতা সঞ্জয় দাস বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছেন ২০১৪ সালে। তখন সেশন জটে তার বয়স প্রায় ৩০ ছুঁইছুঁই। পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করে আসছিলেন তিনি। একাধিক পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছেন; কিন্তু সফল হননি। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে তার বয়স এখন ৩৩ ছাড়িয়েছে। ফলে সরকারি চাকরির আর কোন সুযোগও নেই তার সামনে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে থাকা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের আহবায়ক তিনি।

সঞ্জয় দাসের মতো লাখ লাখ তরুণের চাকরি খুঁজতে খুঁজতে ৩০ বছরের কোটা পেরিয়ে গেছে। তারা মনে করেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ নয়, ৩৫ করা সময়ের দাবি। এ দাবিতেই তাদের আন্দোলন চলছে সাত বছর ধরে।

সরকারি চাকরি শুরুর করার বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। তারা বলছে, এ দাবি যৌক্তিক। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করার চিন্তাভাবনা চলছে- এমন তথ্য জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্দোলনে থাকা এসব শিক্ষার্থীরা।

দেশের বিভিন্ন পেশায় চাকরিতে বয়সের ভিন্নতা রয়েছে। পাবর্ত্য জেলার প্রার্থীদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০ বছর। এছাড়া বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর রয়েছে। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের প্রবেশের বয়স ৩৫, নার্সদের ক্ষেত্রে প্রবেশের বয়স ৩৬, ডাক্তার, উপজাতি, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বয়স ৩২ বছর রয়েছে।

২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। তবে অধ্যাদেশ জারির কারণে তা ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এছাড়া গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬০ বছর করার ঘোষণা দেন। অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর পর চাকরিতে প্রবেশের বয়সও বাড়ানোর দাবি ওঠে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে। এ নিয়ে আন্দোলনের পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৫৯ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার সুপারিশ করে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার সুপারিশ করেছি। কেউ ৩৫ বছর বয়সে চাকরিতে যোগ দিলে ক্ষতি তো নেই। আর আমাদের অনেক কারিগরি পদ শূন্য রয়েছে। উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে সেগুলো শূন্য রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ালে এসব পদও পূরণ হবে।’

সঞ্জয় দাস বলেন, আমরা বিশ্বের ১০৭টি দেশে চাকরির বয়সের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপসহ এসব দেশে চাকরির বয়স হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫৯ পর্যন্ত। ভারতেরও বিভিন্ন রাজ্যে চাকরির বয়সসীমা ৩৫ থেকে ৪৫। তিনি জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্পিকার থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২১তম বৈঠকে ৩২ বছর করার সুপারিশ করে। নবম জাতীয় সংসদে ১৪তম অধিবেশনে ৩৫ বছর এই প্রস্তাবটি প্রথম প্রস্তাব হিসেবে গৃহীত হয়।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৭ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটি প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার সুপারিশ করে। বাংলাদেশে সর্বশেষ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে ৩০ বছরে বৃদ্ধি করে তত্কালীন বিএনপি সরকার ১৯৯১ সালের ১৭  জুলাই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে