আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:২৪

অবশেষে বাড়ছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে বাড়ছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের দাবি, গড় আয়ুবৃদ্ধি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ, মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারিদের অবসরের মেয়াদ দু’দফা বৃদ্ধি, অমুক্তিযোদ্ধা কর্মচারিদের অবসরের মেয়াদ বৃদ্ধি, বিচারপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের মেয়াদ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যায়লয়গুলোতে সেশনজট এবং সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের প্রবেশের বয়স সাধারণ চাকরি প্রার্থীদের চেয়ে দুই বছর বেশী থাকায় বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে বিবেচনা করছে সরকার।

ইতোমধ্যে, গত ২৭ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ পেশ করেছে। সেক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর করার প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি আবারও চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা এবং সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো ফাইল মঙ্গলবার পর্যন্ত ফেরত আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদন জমা দিয়ে আসছে। তাদের দাবির স্বপক্ষে অবস্থান নিয়ে গত ২৭ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর এই সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার যে ইতিবাচাক দিক থেকে বিবেচনা করছে তার অন্যতম কারণ হলো মানুষের গড় আয়ুবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ৬ মাস। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স যখন ৩০ করা হয়েছিলো তখন মানুষের গড় আয়ু ছিলো আরো অনেক কম। গড় আয়ুবৃদ্ধির ফলে মানুষ আগের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় ও শ্রম দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মচারিদের অবসরের বয়সসীমা প্রথম দফায় ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর এবং দ্বিতীয় দফায় এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করেছে। পাশাপাশি অমুক্তিযোদ্ধা কর্মচারিদের অবসরের বয়সসীমা এক সঙ্গে দুই বছর বাড়িয়ে ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করেছে। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা দুইবার এবং অমুক্তিযোদ্ধারে অবসরে যাওয়ার সময়সীমা একবার বেড়েছে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আগের মতোই ৩০ বছর থেকে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা হয়েছে। আবার বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা হয়েছিলো। অবশ্য তাদের নিজেদের মধ্যে নানা গ্রুপিং এবং প্রশাসন ক্যাডারের অসহযোগীতার কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া বিজ্ঞানীদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে আদালতের রায়ও রয়েছে। বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়লেও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সেই আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়গুলোতে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতর কারণে দীর্ঘ সেশনজট লেগেই আছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী অনার্সসহ এমএ পাশ করতেই ২৭/২৮ বছর লেগে যাচ্ছে। ছাত্রজীবন শেষ করার দুই বছরের মাথায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। সেই ক্ষেত্রে সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়া একই ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়া সত্বেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা ৩২ বছর। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা ৩০ বছরই থেকে গেছে। এর ফলে এক ধরণের অসমতা বিরাজ করছে।

অবসরের বয়স বাড়লেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা না বাড়ায় চাকরি প্রত্যাশীরাও হতাশায় ভুগছেন। তাছাড়া এক দেশে এক একেকজনের জন্য চাকরিতে প্রবেশের একেক ধরণের সুযোগ রাখায় বিষয়টি দেখতেও অসুন্দর মনে হচ্ছে। অবসরের ক্ষেত্রেও একেক পেশায় একেক রকম। দেশের সব চাকরিজীবীর জন্য অবসরের অভিন্ন নিয়ম থাকলে তা সকলের কাছ গ্রহণযোগ্যতা পাবে। অবশ্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার চাইলে রাখতেই পারেন। এই ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি থাকার কথা না। সেই ক্ষেত্রে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা হোমওয়ার্ক করছেন। তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমরা প্রস্তাব প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেছি। তার সম্মতি পেলেই তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। সেই ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স কত বছর হবে তা নির্ধারণের একক এখতিয়ার মন্ত্রিসভার। তারা বাড়াতে কিংবা কমাতে পারেন। অর্থাৎ প্রস্তাব ৩২ বছর করা হলেও, মন্ত্রিসভা তা বাড়িয়ে ৩৪/৩৫ কিংবা কমিয়ে ৩৩ বছর করতে পারবেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে