আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১০:৩০

বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ, মিলবে ভাতা-চাকরি

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ, মিলবে ভাতা-চাকরি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আপনাকে ভাতাও দেওয়া হবে। বিষয়টি ব্যবস্থাপনা করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

কেন এই প্রশিক্ষণ, কী উদ্দেশ্য?

বেসিস মনে করে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে না পারলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব। দক্ষ জনশক্তি থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই আকৃষ্ট হন। তথ্যপ্রযুক্তিতে মানবসম্পদ তৈরিতে ২০০৭ সালে বেসিস প্রথম প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরি করতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই থেকে বেসিসের প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিআইটিএমের মাধ্যমে প্রায় আট হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্ডাস্ট্রিতে বা বাকিরা ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছেন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ রূপকল্প ঘোষণা দেয় বেসিস। এই রূপকল্পের অন্যতম বিষয় হচ্ছে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি তৈরি। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী তিন বছরে বিনা মূল্যে ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে বেসিস। জনশক্তি তৈরির এই কাজকে এগিয়ে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইআইপি) একটি অংশ বাস্তবায়ন করছে বেসিস। যার অর্থায়নে রয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও সুইস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এসডিসি)। বেসিসের বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

প্রশিক্ষণ পাবেন মোট কত জন? কোন পর্যায়ে কত জন করেন?
তিন বছরে মোট ২৩ হাজার জন প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রকল্পের প্রথম বছর শুধু ঢাকা বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনাসহ অন্যান্য বিভাগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। এই প্রকল্পের আওতায় বিআইটিএম প্রথম বছরে পাঁচ হাজার এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নয় হাজার করে শিক্ষার্থীকেপ্রশিক্ষণ দেবে।

কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মেয়াদ কত দিন করে?
মোট ১৪টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্র্যাকটিক্যাল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), ডিজিটাল মার্কেটিং, আইটি সাপোর্ট টেকনিক্যাল, কাস্টমার সাপোর্ট অ্যান্ড সার্ভিস ও আইটি সেলস বিষয়ে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, পিএইচপি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট-ডটনেট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সার্ভার ম্যানেজমেন্ট ও ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইংলিশ কমিউনিকেশন ও বিজনেস কমিউনিকেশন বিষয়ে তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা ক্লাস নেওয়া হয়।

জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দে​য় বেসিস l প্রথম ​আলোকবে থেকে শুরু
গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে বিডিবিএল ভবনে অবস্থিত বিআইটিএম ল্যাবে এসইআইপি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ইতিমধ্যে তিন হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় আবেদন করা যায়। তবে প্রশিক্ষণ দল হিসেবে দেওয়া হয় বলে প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বে যেতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
ভাতা কী হারে দেওয়া হবে? একজন কত টাকা এবং কীভাবে পাবে?
কোনো প্রশিক্ষণ ফি ছাড়াই প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য মাসিক ৩ হাজার ১৫০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে প্রশিক্ষণার্থীদের। এ ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অন্য কোনো ধরনের খরচ লাগবে কি না?
প্রশিক্ষণ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীকে কোনো টাকাই খরচ করতে হবে না।

আবেদনের নিয়ম
স্নাতক শেষ অথবা শেষের পর্যায়ে এমন যে কেউই এসইআইপি প্রকল্পে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাঁকে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে তাঁকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনলাইনে (http://bitm.org.bd/seip) আবেদন করতে হবে। আগ্রহীরা একটি বিষয়কে প্রধান করে মোট তিনটি বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষার ২ থেকে ৩ দিন আগেই তাঁদের পরীক্ষার সময়, দিন ও স্থান জানানো হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্দিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ধারণা পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষকেরা মৌখিক পরীক্ষা নেন। যাঁরা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাঁরাই পরবর্তীকালে ভর্তি হয়ে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও কর্মসংস্থানে সহায়তা দেবে বেসিস-বিআইটিএম। যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া চাকরি খোঁজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন।

যোগাযোগ
এই কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য (http://bitm.org.bd/seip) সাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া বিস্তারিত জানার জন্য রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বিআইটিএম অফিসে গিয়ে সরাসরি জানা যাবে। ০৯৬১২৩৪২৪৮৬ নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করা যাবে। চাইলে আপনিও নিতে পারেন এই সুযোগ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে