আপডেট : ৮ জুলাই, ২০১৯ ১০:৪৯

ইউরোপকে দেয়া আল্টিমেটাম শেষ, হুমকি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক
ইউরোপকে দেয়া আল্টিমেটাম শেষ, হুমকি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে ইরান

এক তরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা ও পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইরান ইউরোপকে দুই মাসের সময় বেধে দিয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার কাজ শুরু করেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিঈ তেহরানে দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশের কথা বলা হলেও আজ থেকে আমরা যতটুকু প্রয়োজন মনে করব সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ঠিক ততখানি বাড়নো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও বলেন, "নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর অর্থ এ নয় যে ইরান পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে।" তবে তিনি বলেন, "ইরান পর্যায়ক্রমে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে পরমাণু সমঝোতায় দেশটির উপস্থিতির অবসান ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।"

ইউরোপকে দেয়া ইরানের দুই মাসের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে ইরান পরমাণু সমঝোতার কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখা শুরু করবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়াবে। এর উদ্দেশ্য ইউরোপের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করা যাতে সবাই পরমাণু সমঝোতা মেনে চলে।

পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নে ইউরোপ যদি এ সুযোগকেও কাজে না লাগায় তাহলে ইরান তৃতীয় ধাপের পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে।

আমেরিকা গত বছরের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফের ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা ও পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইরান ইউরোপকে এক বছরের সময় দেয়।

কিন্তু ইউরোপীয়রা তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে চরম গড়িমসি করে এবং ইরানের এ উদারতাকে তারা দুর্বলতা ভাবে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপের গড়িমসি কিংবা ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

পরমাণু সমঝোতা রক্ষার একমাত্র শর্ত হচ্ছে সব পক্ষকে এটি মেনে চলতে হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও ইরান কেবল একাই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ১৫টি প্রতিবেদনে বিষয়টি স্বীকার করেছে।

ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানালেও তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরানের স্বার্থ রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আর এ কারণেই ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। গত সাত জুলাই থেকে ইরান চুক্তির কয়েকটি ধারা বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে এবং এখন দেশটি যতটুকু প্রয়োজন মনে করবে ততখানি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।

এ অবস্থায় ইউরোপ যদি ইরানের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় তাহলে ইরানও চুক্তির ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন করবে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, "তারা পরমাণু সমঝোতার কয়েকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে এলেও আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে।

তবে তেল বিক্রি ইস্যুতে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।"  শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "আমি স্বীকার করছি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তবে আমরা ইরানের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে