আপডেট : ১ জুন, ২০১৯ ১৪:৪৬

কচু শাক বিক্রেতা থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিনি!

আন্তর্জাতিক
কচু শাক বিক্রেতা থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিনি!

এক সময় তিনবেলা খাবার জুটতো না তার। খাবারের জন্য জঙ্গল থেকে কচু এবং ঢেকি শাক তুলে আনতে হত। বাজারে সেসব বিক্রি করে যা টাকা পেতেন সেটা দিয়ে খাবার কিনে মিলেমিশে ভাগ করে খেতেন। তিনিই এখন ভারতের মোদির মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী।

তার নাম রামেশ্বর তেলি। আসামের ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা রামেশ্বরকে এবার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রামেশ্বর তেলির ছোটবেলা খুব অভাবের মধ্যে কেটেছে। বাবা ছিলেন সামান্য চা শ্রমিক। ডিব্রুগড়ের চা বাগানেই দরমার ঘরে ভাই, দুই বোন নিয়ে মোট ৬ জনের বাস। বাবার টাকায় ঠিকমতো খাবারও জুটত না তাদের।

রামেশ্বরের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। তখন থেকেই পরিবারের অভাব মেটতে নিজেই উপার্জন করতে শুরু করেন। দুই বছরের ছোট ভাই গুণেশ্বরকে সঙ্গে নিয়ে রোজ আশেপাশের জঙ্গল চষে বেড়াতেন। সঙ্গে করে কচু আর ঢেকি শাক নিয়ে ফিরতেন। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে পরিবারের জন্য খাবার কিনতেন।

রামেশ্বরের বাবার মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। মা, ভাই এবং দুই বোনের সংসারের হাল ধরতে হয় রামেশ্বর তেলিকে। তাই পড়াশোনা বিশেষ করে উঠতে পারেননি।

রোজগারের জন্য বাড়ির কাছেই একটি পানের দোকান দিয়েছিলেন। সেখান থেকে যা উপার্জন হতো তাতে সংসার চলত। একটু একটু করে সেই টাকা জমিয়ে দুই বোনের বিয়েও দেন।

কলেজে পড়ার সময় রামেশ্বর আসামের চা জনগোষ্ঠী ছাত্র সংস্থা (আটসা)য় যোগ দেন। আটসা নেতা তেলির জনপ্রিয়তা ও নেতাসুলভ গুণ নজরে পড়ে বিজেপি নেতাদের। ২০০১ সালে দুলিয়াজান থেকে বিজেপি বিধায়ক হন রামেশ্বর। ২০০৬ সালেও বিধায়ক হন। তবে ২০১১ সালে হেরে যান। কিন্তু ২০১৪ সালে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের পাঁচ বারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবনসিংহ ঘাটোয়ারকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটে হারিয়ে তাক লাগান তিনি।

এবারের লোকসভা নির্বাচনেও তার প্রতিপক্ষ ছিলেন পবনসিংহ। এবার আরো বেশি ব্যবধান তাকে পরাজিত করেছেনরামেশ্বর। তিনি পবনসিংহকে ৩,৬৪,৫৬৬ ভোটে হারিয়েছেন, যা আসামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। আর এত বেশি ভোট পাওয়ার কারণেই রামেশ্বরকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেন মোদি।

যদিও রামেশ্বরের সংসারে এখন অভাব না থাকলেও তার জীবনযাপনে পরিবর্তন ঘটেনি। তার মা, ভাই এখনও চা বাগানের সেই দরমার ঘরেই থাকেন। রাজনীতির কাজে বাড়িতে খুব বেশি থাকতে পারেন না রামেশ্বর। বাড়ি ফিরলে কিন্তু এই দরমার ঘরই তার আস্তানা।

বৃহস্পতিবারে ছেলেকে শপথ নিতে দেখে গর্বে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রামেশ্বরের মা। জানান, এখন শুধু একটাই ইচ্ছা তার, রামেশ্বরের বিয়ে। ইতিমধ্যে ছেলের জন্য পাত্রী খোঁজাও শুরু করে দিয়েছেন তার মা।

সূত্র: আনন্দবাজারবি

ডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম  

উপরে