আপডেট : ২৩ মে, ২০১৯ ১২:৩৮

মমতার দূর্গে মোদির হানা

আন্তর্জাতিক
মমতার দূর্গে মোদির হানা

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গেও গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত মিলেছে। ২০১৪ সালে বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেলেও এবার তারা তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে।

বুথ ফেরত জরিপের অনুমান ছিল পশ্চিমবঙ্গে ১৩টি আসন পেতে পারে তারা। তবে এ পর্যন্ত প্রকাশিত ফলে তারা এর চেয়েও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন এবার সব দিক থেকেই ছিল বিশেষ। এবার বাংলার মানুষ কাকে বেছে নিচ্ছেন তার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে এতটা উত্তাপ ছিল না। কিন্তু এবার এ রাজ্যের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

বিজেপি বাংলায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করতে থাকায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি শিবির কয়টি পেতে পারে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

বুথ ফেরত সমীক্ষার গড় থেকে আভাস মিলেছিল, অন্তত ১৩টি আসনে জয় পাবে বিজেপি। ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত সে আভাস সত্যি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২২টি আর বিজেপি ১৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে ২৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৬টি আসনে। মাত্র ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৬টি আসনে তৃণমূল, ১৫টিতে বিজেপি এবং একটিতে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের আরামবাগ, বালুরঘাট, বারাসত, বর্ধমান, বসিরহাট, বীরভূম, বোলপুর, কোচবিহার, দার্জিলিং, ডায়মন্ড হারবার, দমদম, ঘাটাল, হুগলি, হাওড়া, যাদবপুর, জঙ্গিপুর, জয়নগর, কাঁথি, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর, কৃষ্ণনগর, মথুরাপুর, মুর্শিদাবাদ, রায়গঞ্জ, শ্রীরামপুর আসনে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে, আলিপুরদুয়ার, আসানসোল, বনগাঁ, বাঁকুড়া ,ব্যারাকপুর, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি, রানাঘাট, মালদহ দক্ষিণ, মালদহ উত্তর, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরে। এদিকে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে বহরামপুরে।

‘বিজেপি হঠাও, দেশ বাঁচাও’, এ স্লোগানকে সামনে রেখেই এবার নির্বাচনি প্রচারে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মমতার টার্গেট ছিলেন একজনই, নরেন্দ্র মোদি। ‘এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী’ হোক কিংবা ‘ঝুটা প্রধানমন্ত্রী’, মোদিকে নিয়ে মমতার আক্রমণাত্মক এসব শব্দচয়নে সরগরম হয়েছে বাংলার রাজনীতি। অন্যদিকে, বাংলায় একের পর এক নির্বাচনি সভা থেকে চিটফান্ড কেলঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে মমতাকে আক্রমণ করেছেন মোদি। মমতাকে ‘উন্নয়নের স্পিড ব্রেকার’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে