আপডেট : ৬ মার্চ, ২০১৯ ১৭:২৪

সোনাগাছির যৌনকর্মীরা ভোট দিতে পারে না কেন?

আন্তর্জাতিক
সোনাগাছির যৌনকর্মীরা ভোট দিতে পারে না কেন?

ভোট দেবেন কোনখানে? জোড়া ফুলে না কি পদ্মে? নাকি অন্য কোনও চিহ্নে? কোনও চিহ্ন ,কোনও রঙ নয়। ভোট দিতেই পারেন না শহরের অধিকাংশ যৌনকর্মীরা। রাজ্য থেকে কেন্দ্র প্রত্যেকের কাছেই তাঁদের দাবি তাঁদের নুন্যতম যে পরিচয় পত্র সেটা করিয়ে দেওয়া হোক। না হলে তাঁরা দেশের নাগরিক হয়েও নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারছেন না। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেও দোলাচলে তাঁদের ভোটাধিকার প্রাপ্তির সম্ভাবনা।

সোনাগাছিতেই আছেন প্রায় ২০ হাজার যৌনকর্মী। প্রত্যেকের ভোটার কার্ড করানোর আর্জি জানিয়েছে ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি’। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা ভোটার কার্ডের জন্য দাবি জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু কাজ কিছুতেই হচ্ছে না।

যৌনকর্মীদের দাবি দক্ষিণ কলকাতার কালিঘাট , চেতলা অঞ্চলে যে সব যৌনপল্লি রয়েছে সেখানকার বেশিরভাগ কর্মীদের কার্ড হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এশিয়ার সবথেকে বড় এবং পরিচিত যে যৌনপল্লী যাদের কর্মীরা দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর ধরে ‘বিশেষ সামাজিক কাজ’ করে আসছেন তাঁদের ভোটাধিকার পেতে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সামনেই লোকসভা ভোট। সেখানেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ তাঁরা করতে পারবেন কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান রয়েছেন।

‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি’-র পক্ষে কাজল দে বলেন, “আমাদের ভোটার কার্ডের জন্য যখন আবেদন করা হচ্ছে তখন মা বাবার পরিচয় বাড়ির ঠিকানা এই সমস্ত চাওয়া হচ্ছে। নিজের কি কি রয়েছে চাওয়া হচ্ছে। আমাদের কি এতসব রয়েছে? থাকলে তো দিয়েই দিতাম। ঊষা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রমাণ দিয়ে কিছুজনের ভোটার কার্ড হয়েছে। সেগুলো পুরোটাই দক্ষিণ কলকাতার। ববি হাকিম নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেটা করে দিয়েছেন। কিন্তু উত্তরে আমাদের এই ওয়ার্ড গুলিতে ভোটার কার্ড করাতে গেলেই সমস্যা হচ্ছে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।”

সম্প্রতি সোনাগাছির ৫০ জনের ভোটার কার্ডের জন্য ফের আবেদন জানানো হয়েছে কিন্তু সেগুলিতে আদৌ কাজ হবে কি না বা কবে হবে তা নিয়ে সন্দিহান দুর্বারের সদস্যরা।

যৌনকর্মী সন্তান এবং দুর্বারের প্রজেক্ট লিডার তাপসী অধিকারী বলেন , “আগে আমাদের কোনও রকম দেশের নাগরিক হিসাবে আমাদের কোনও অধিকারই ছিল না। কিন্তু দুর্বার ঊষা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করে। কাজ হচ্ছিলও কিন্তু গত বছর চারেক আর কোনও কাজ হচ্ছে না। বিশেষ করে সোনাগাছি সবথেকে বেশি ভুগছে এই বিষয়টা নিয়ে। অনেকেরই ভোটার কার্ডে নামই উঠছে না।”

কাজল দে জানিয়েছেন, “যদি কারও শরীর খারাপ হয় বা কোনও ক্ষেত্রে কোনও সরকারি কাজের প্রয়োজন হয় তখন এই পরিচয় পত্র না থাকার জন্য কোনও সুবিধা আমাদের মেয়েরা পাচ্ছে না। যদি কেউ মারাও যায় তাহলেও তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতেও সমস্যা হচ্ছে। এর আমরা প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান হোক। আমরা আমাদের অধিকার পেতে চাই।”

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে