আপডেট : ৬ মার্চ, ২০১৯ ১৫:১২

ভারত-পাকিস্তান বিমানযুদ্ধে চীনের কী লাভ?

অনলাইন ডেস্ক
ভারত-পাকিস্তান বিমানযুদ্ধে চীনের কী লাভ?

চীন–পাকিস্তানের যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ সেভেন্টিন বিমানের আঘাতেই যদি ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগ টোয়েন্টি ওয়ান ভূপাতিত হয়ে থাকে তাহলে তা বাণিজ্যিক সুবিধা এনে দিতে পারে চীনকে।

সংশ্লিষ্ট চীনা বিমান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার টুইটার বার্তার পর।

তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ সিক্সটিন নয় বরং চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ সেভেন্টিন জঙ্গি বিমান ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দনের মিগ টোয়েন্টি ওয়ানকে ভূপাতিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমস লিখেছে, যদি এ তথ্য সত্য হয়ে থাকে তাহলে ওই ঘটনাই জেএফ সেভেন্টিনের ইতিহাসে বাস্তব যুদ্ধের প্রথম অভিজ্ঞতা, যা বিমানটি বিক্রির ক্ষেত্রে চীনকে দেবে বাড়তি প্রচারণাগত সুবিধা।

এনডিটিভি ২৭ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলা প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, ভারতীয়দের ধাওয়া করা পাকিস্তানের বহরে ছিল আটটি মার্কিন এফ সিক্সটিন, চারটি ফরাসি মিরেজ থ্রি, চারটি চীনা জেএফ সেভেন্টিন জঙ্গি বিমান।

বাকিগুলো ভারতীয় হামলা থেকে জঙ্গি বিমানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পাঠানো যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে তাদেরকে বাধা দিতে ছুটে যায় ভারতীয় আটটি বিমান।

এসবের মধ্যে ছিল রাশিয়ার তৈরি চারটি সুখোই থার্টি, দুইটি ফরাসি মিরেজ টু থাউজেন্ড এবং দুইটি মিগ বাইসন। মিগ বিমানগুলোর একটির বৈমানিক ছিলেন অভিনন্দন বর্তমান, যাকে পাকিস্তান শুক্রবার (১ মার্চ) ভারতের কাছে ফেরত দিয়েছে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ সিক্সটিন বিমান থেকে ছোঁড়া ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার মিসাইলেই’ ভূপাতিত হয়েছে অভিনন্দনের মিগ টোয়েন্টি ওয়ান।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি এফ সিক্সটিন বিমানে ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার মিসাইল’ ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তান বিমানটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তের লঙ্ঘন ঘটিয়েছে।

কিন্তু আদৌ কি পাকিস্তানি বিমানটি এফ সিক্সটিন ছিল? ইন্ডিয়া টাইমস লিখেছে, অভিনন্দনের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তান বিমান বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল শহিদ লতিফ টুইটার বার্তায় দাবি করেছেন, ভারতীয় বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে জেএফ সেভেন্টিন।

তার ভাষ্য, ‘এটা আমার জন্যে গর্বের বিষয় যে আমি জেএফ সেভেন্টিন থান্ডার প্রকল্পের পরিচালক ছিলাম জেনারেল পারভেজ মুশাররফের আমলে।

চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে উন্নয়ন করা ওই বিমানই ভারতীয় বিমানকে পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভূপাতিত করেছে।’ ইন্ডিয়া টাইমস লিখেছে, এয়ার মার্শাল লতিফের টুইটার বার্তা প্রকাশিত হওয়ার পর ‘সিচুয়ান চেংফেই ইন্টিগ্রেশন টেকনোলজির’ শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি ‘চেংডু এয়ারক্র্যাফট করপোরেশনের’ সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে জেএফ সেভেন্টিন বিমান তৈরি করে। এয়ার মার্শাল লতিফের ভাষ্য নিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীরা উচ্ছ্বসিত।

তার দাবি সত্য হলে, ২৭ তারিখের সংঘর্ষই জেএফ সেভেন্টিন বিমানের জন্য যুদ্ধের প্রথম অভিজ্ঞতা। আগে আর কোনও সংঘর্ষে বিমানটি সক্ষমতা দেখানোর সুযোগ পায়নি।

এখন জঙ্গি বিমানটি অন্যান্য দেশের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচারণাগত সুবিধা পাবে চীন। জেএফ সেভেন্টিন কিনতে আগ্রহী ক্রেতা এখনও খুব একটা নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন করা বিমানটি মিয়ানমার ও নাইজেরিয়া কিনেছে।

শ্রীলঙ্কার কাছে বিক্রির চেষ্টা করলেও ভারতের চাপে শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে জেএফ সেভেন্টিন বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ইন্ডিয়া টাইমস লিখেছে, জেএফ সেভেন্টিন বিমানটির ইঞ্জিনের সক্ষমতা যথেষ্ট ভালো নয়।

চীন নিজেও রাশিয়ার কাছ থেকে এএলফোরওয়ানএফওয়ানএস ইঞ্জিন কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া তাতে রাজি হয়নি। তাদের আশঙ্কা, চীন ইঞ্জিনটি কিনে তা পরে নকল করবে। ফলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই থার্টি ফাইভ জঙ্গি বিমান কিনতে বাধ্য হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে