আপডেট : ৬ মার্চ, ২০১৯ ১২:০৬

মাসুদ আজহারের ভাই-ছেলেসহ ৪৪ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক
মাসুদ আজহারের ভাই-ছেলেসহ ৪৪ জন আটক

জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মাসুদ আজহারের ভাই মুফতি আব্দুল রউফ এবং তার ছেলে হামাদ আজহারসহ ৪৪ জনকে আটক করেছে পাকিস্তান। কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত জঙ্গিদের প্রশয় দেয়ার অভিযোগ তোলার পরই এই জঙ্গি বিরোধী অভিযান শুরু করলো ইসলামাবাদ সরকার।

জঙ্গি আটক সম্পর্কে পাকিস্তান বলছে, আগাম সতর্কতা হিসেবে তদন্তের স্বার্থে মুফতি রউফকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার খান আফ্রিদি বলেছেন, বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলমান গ্রেপ্তারি অভিযানের অংশ হিসেবে জইশ-এর এই নেতাদের আটক করা হয়েছে।

পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই মোহাম্মদ সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। ওই হামলায় অন্তত ৪০ জন আধাসামরিক সৈন্য প্রাণ হারায়। এই হামলার জের ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিবিসি বলছে, পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার পর ভারত সরকার হামলাকারীদের পরিচয় দিয়ে যে দলিল পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে, তাতে আটক হওয়া কিছু লোকের নাম রয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিব সুলেমান খান বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই হামলার সঙ্গে এসব আটককৃতদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

তবে জইশ-ই মোহাম্মদের প্রধান মওলানা মাসুদ আজহারকে এখনও আটক করা হয়নি। অসুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে পাকিস্তান পুলিশ জানিয়েছে। পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকে আগামী দিনগুলিতেও এই গ্রেপ্তারি অভিযান চলবে।

গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর একদিন আগে জাতিসংঘের রূপরেখা অনুযায়ী জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রক্রিয়া শুরু করে পাকিস্তানের সরকার। এর মাধ্যমে সরকার জঙ্গি সংগঠন এবং তার নেতাদের হাতে থাকা সম্পদসহ সবকিছুর দখল নেয়। আসলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই ক্র্যাক ডাউন শুরু করা ছাড়া পাকিস্তানের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিলো না।

সম্প্রতি জঙ্গি অর্থায়ন-বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফ’র দেশটিকে জঙ্গি দমনের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে জঙ্গি দমনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিতে পারলে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হতো।

আর এমনটি হলে উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য পাকিস্তান কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারতো না। দেশের নাজুক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখতেই এই জঙ্গি বিরোধী তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। সূত্র: বিবিসি

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে