আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৪৪

পুঁজিবাদের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আসছে 'বৈপ্লবিক আইন'

অনলাইন ডেস্ক
পুঁজিবাদের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আসছে 'বৈপ্লবিক আইন'

যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট সাম্রাজ্যের পরিবর্তন ঘটাতে নতুন এক আইনের প্রস্তাব করেছেন ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। ‘অ্যাকাউন্টিবিল ক্যাপিটালিজম অ্যাক্ট’ নামে অভিহিত ওই আইনটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক নিবন্ধে আইনটির প্রস্তাবক ওয়ারেন বলেন, ‘শেয়ার হোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ মুনাফা করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় তার একমাত্র লক্ষ্য ধনীকে আরও ধনী বানানো। শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়লেও স্থবির হয়ে আছে তাদের প্রকৃত আয়। শ্রমিকরা উৎপাদনে যে অবদান রাখেন, সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক পান না। শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়া ও স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ না করার কৌশল অবলম্বন করে চলা কর্পোরেশনগুলোর ব্যবসার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্যই নতুন আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। তাঁর প্রস্তাবটি পাস হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা কর্পোরেশনগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া বিশেষ বিধান মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে পারবে না তারা। ‘অ্যাকাউন্টিবিল ক্যাপিটালিজম অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কর্পোরেশনগুলোকে শ্রমিক, ক্রেতা এবং যে শহরগুলো থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় সেগুলোর লাভ-ক্ষতির বিষয়েও ভাবতে হবে। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন বিভাগ খোলা হবে যার কাজ হবে কর্পোরেশনগুলোকে বিধি মেনে চলার শর্তে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া ও প্রয়োজনে তা বাতিল করা।

‘অ্যাকাউন্টিবিল ক্যাপিটালিজম অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কর্পোরেশনগুলোর ৪০ শতাংশ পরিচালককে শ্রমিকদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। এই ধারার আওতায় পড়বে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত তিন হাজার ৫০০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানসহ শত শত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

অর্থনীতি ও কর্পোরেট বিশেষজ্ঞ কয়েকজন শিক্ষাবিদ ওয়ারেনের প্রস্তাবের প্রশংসা করেছেন। তারা জানান, প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে কর্পোরেশনগুলোর লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। শ্রমিকরাও তাদের ন্যায্য ক্ষমতা পাবেন। যা সম্পদের বণ্টনে আনবে সমতা।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট হকেট ওয়ারেনের প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট সাম্রাজ্যের পরিবর্তন ঘটাতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কয়েকজন মার্কিন শিক্ষাবিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেশনগুলো শুধু শেয়ার হোল্ডারদের মুনাফার কথা বিবেচনা করে চালিত হয়। এর পরিবর্তন হওয়া দরকার।

মার্কিন পুঁজিবাদের সংস্কারের উদ্দেশ্যে আনা প্রস্তাবটির সমালোচনাও করছেন অনেকে। বেঞ্চমার্ক ইনভেস্টমেন্টের সিইও কেভিন কেলি বলেন, ‘কর্পোরেশনগুলো কি করবে আর কি করবে না তা নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে ওয়ারেনের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে কম।’ তাঁর প্রস্তাবিত আইনটি মুক্তবাজার অর্থনীতি সঙ্গে খাপ খায় না বলেও জানান তিনি।

ফোর্বস মিডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী স্টিভ ফোর্বস বলেন, ওয়ারেনের প্রস্তাবনা কার্যকর হলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে।

উপরে