আপডেট : ২০ জুন, ২০১৮ ১৪:২৮

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য লড়াইয়ের আদ্যোপান্ত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য লড়াইয়ের আদ্যোপান্ত

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। একই সঙ্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি কর বসানো নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চীন বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশেরই বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। আর সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনৈতিক বাজার। আজ জানবো যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য লড়াইয়ের আদ্যোপান্ত:

শুরুতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ

গত মার্চ মাসে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে এ যুদ্ধের শুরুটা হয়। এ শুল্ক আরোপের ঘোষণায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলো ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৮০০ বিলিয়ন ডলার’। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, চীনের সাথে ভারসাম্যহীন বাণিজ্যই এই বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেই তিনি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ অন্যান্য চীনা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন।

তবে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, শুল্ক আরোপ করে এভাবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যাবে না বরং এতে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

চীনের হুমকি:

এদিকে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হলে চীন তা বেআইনি মনে করে। এর উপযুক্ত জবাব দেয়ার কথা বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁরা ভাবছিল।

কেবল চীনই নয়, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশগুলোও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত বদলাতে যু্ক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ ও কড়া সমালোচনা করে।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধাকরা দেশটির আন্তর্জাতিক বাজার ও ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ভারতের ক্ষোভ প্রকাশ:

ভারত ও ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ৩০ টি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে।

ট্রাম্প সিদ্ধান্তে অটল:

তবে, ট্রাম্প কোন অবস্থায়ই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে নারাজ। চীনার ওপর এ শুল্ক আরোপের ফলে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে বলে তিনি মনে করেন।

চীনের শুল্ক আরোপ:

এর জবাবে চীন গত শুক্রবার যু্ক্তরাষ্ট্রের পানীয়, শূকরের মাংস, ফলসহ ১৮০ টির ও বেশি বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ওপর কর আরোপের ঘোষণা দেয়। ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ হারে মার্কিন পণ্যের ওপর এ শুল্ক আরোপ দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার খাতিরেই করা হয়েছে বলে জানায় চীনা সরকার।

যু্ক্তরাষ্টের উপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাথে করা শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তিটিও বাতিল করেছে চীন। চীনের এমন মোক্ষম জবাবে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যু্ক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হুমকি:

এদিকে চীনের এমন ঘোষণার পরই ট্রাম্প পাল্টাপাল্টি হুমকি চালায়। চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে আরো বিশ হাজার কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। চীনা তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে আরো ১০ শতাংশ কর বসানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় দিন দিন বিষয়টি আরো জটিল রূপ ধারণ করছে।

দু’দেশের চলমান এ বাণিজ্য লড়াইয়ে কে জিতবে তা বলা মুশকিল। দীর্ঘদিন এমন বৈরী সম্পর্ক চলতে থাকলে দু’দেশের বাণিজ্যই পড়বে হুমকির মুখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উপরে