আপডেট : ২৪ মে, ২০১৮ ২১:১৩

কিমকে হুমকি দিয়ে বৈঠক বাতিল করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক
কিমকে হুমকি দিয়ে বৈঠক বাতিল করলেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আগামী ১২ জুন নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যস্থতায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে প্রস্তাবিত আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক এই বৈঠক আহ্বান করেছিল। তবে শেষপর্যন্ত বৈঠকটি হচ্ছে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে চিঠি পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

কিমকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে আপনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে যে ক্রোধ ও খোলাখুলি বৈরিতা প্রকাশ পেয়েছে, তাতে মনে হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করা এই বৈঠকের জন্য উপযুক্ত সময় এখন নয়।’

তিনি বলেন, ‘অতএব, এই চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হচ্ছে যে, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক আমাদের উভয়ের ভালোর জন্য বাতিল করা করা হলো। কিন্তু, পৃথিবীর জন্য এটা ভালো হলো না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আপনি (কিম জং উন) আপনার পরমাণু সক্ষমতার কথা বলছেন। কিন্তু, আমাদেরগুলো এতো বড় ও শক্তিশালী যে ঈশ্বর না করুন সেগুলো কখনো ব্যবহার করতে হয়।’

কিমকে সরাসরি সম্বোধন করে লেখা ওই চিঠিতে ট্রাম্প ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলেও জানিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘আহাম্মকি’ বলে উড়িয়ে দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রস্তাবিত বৈঠক আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সন হুই বৃহস্পতিবার বলেছেন, পিয়ংইয়ং আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অনুনয়’ করবে না এবং কূটনীতিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে পরমাণু মহড়া চালাবে।

চো সন-হুই গত দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার কয়েকটি কূটনৈতিক আদান-প্রদানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ- এ প্রকাশিত একটি কলামে তিনি বলেন, পেন্স সম্প্রতি মিডিয়ায় ‘লাগামহীন ও উদ্ধত মন্তব্য দিয়েছেন। ‘উত্তর কোরিয়ার পরিণতি লিবিয়ার মতো হতে পারে’ এটাও তার এমনই একটি মন্তব্য।

পেন্সকে একজন ‘রাজনৈতিক নির্বোধ’ বলে অভিহিত করে হুই বলেন, উত্তর কোরিয়া একটি পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ। আর লিবিয়া কেবলমাত্র কয়েকটি যন্ত্র স্থাপন করে সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল।

‘যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে, আমি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এমন আহাম্মকি বক্তব্য বের হওয়ায় বিস্মিত,’ বলেন তিনি।

তার দেশ আলোচনার জন্য ‘অনুনয় করবে না’ জানিয়ে হুই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে মিটিং রুমে আলোচনায় বসবে, নাকি পরমাণু অস্ত্রকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে মোকাবেলা করবে তা পুরোটাই নির্ভর করবে তাদের সিদ্ধান্ত ও আচরণের ওপর।’

পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তারা একতরফাভাবে সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছিলেন আলোচনা করতে চাইলে উত্তর কোরিয়াকে শর্ত মানতে হবে এবং তারা সেটি করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন উত্তর কোরিয়ার অবস্থা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের যাচাইযোগ্য ‘লিবিয়া মডেলের’ মতো হতে পারে বলায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দেশটি।

এরপর উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্প-কিম বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া তাদের একমাত্র পরমাণু স্থাপনার টানেল ধ্বংস করে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে ঘিরে ওই অঞ্চলে বিরাজমান উত্তেজনা কমাতে তারা এই উদ্যোগ কার্যকর করে।

তবে শেষ পর্যন্ত এসব তৎপরতা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক এই বৈঠক বাতিল করলেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে