আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১১:১৮
অমর একুশ

রক্তাক্ত সিয়েরা লিওন বাংলাতেই পেয়েছিল শান্তির খোঁজ

অনলাইন ডেস্ক
রক্তাক্ত সিয়েরা লিওন বাংলাতেই পেয়েছিল শান্তির খোঁজ

গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত হয়েছিল সুদূর আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন৷ সেখানে শান্তি প্রচেষ্টায় মিশে আছে বাংলাদেশের অবদান৷ সেই সূত্রে প্রায় অপরিচিত সিয়েরা লিওনের অন্যতম সরকারি ভাষা বাংলা৷ বঙ্গোপসাগরের তীরে বাংলাদেশ যখন সগৌরবে বলে আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…তখন আটলান্টিক মহাসাগর তীরে আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনবাসী গলা মেলান৷ নিজস্ব উচ্চারণে ভাঙা ভাঙা বাংলায়৷ এশিয়া-আফ্রিকা দুই মহাদেশের দুই দেশের মধ্যে বাংলাই তখন সেতুবন্ধন করে৷

অহংকারের একুশে ফেব্রুয়ারি৷ নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার চেয়ে অভূতপূর্ব আন্দোলনের দিন৷ বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ঝরেছিল রক্ত৷ ১৯৫২ সালের এই আন্দোলনের বাংলাদেশের জন্ম৷ প্রতিবছর গর্বের দিনটি স্মরণ করেন বাংলাদেশবাসী৷ আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দুনিয়া জুড়ে পালিত হয় অনুষ্ঠান৷ আর পশ্চিমবঙ্গ, শিলচর, ত্রিপুরার বাঙালিরাও দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দেন৷

মর্যাদার, অহংকারের ভাষা শহিদ দিবসের সুর বেঁধে রেখেছে আফ্রিকার সিয়েরা লিওনকে৷ দেশের অন্যতম প্রচলিত ভাষা হল ‘ক্রিও’৷ তবে ইংরেজি এখানকার সরকারি ভাষা৷ আর কমবেশি প্রায় ২০টি ভাষা এই দেশে প্রচলিত। এমনই সিয়েরা লিওন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অমর একুশ গানে গলা মেলান৷

পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি নব্বইয়ের দশকে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল৷ রাজনৈতিক অস্থিরতা ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হয়৷ লাগাতার সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু মিছিল দেখেছে এই দেশটি৷ একের পর এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেও গৃহযুদ্ধ থামানো যায়নি৷ ফলে ১৯৯৯ সালে রাষ্ট্রসংঘ শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেয়। সিয়েরা লিওনে পাঠানো শান্তিরক্ষী বাহিনীর অন্যতম সদস্য হিসেবে অংশ নেয় বাংলাদেশ৷

শুরু হয় গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত সিয়েরা লিওনকে পুনর্গঠনের পর্ব৷ রাষ্ট্রসংঘের এই শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে বাংলাদেশি সেনাকর্মীদের ভূমিকা ক্রমশ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে৷ শান্তি প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ সেনা দল ২০০৫ সালে ফিরে আসে।

এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মাঝেই বাংলাদেশ সেনা সিয়েরা লিওনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় পালনের ভূমিকা নিয়েছিল৷ সেই সূত্রে ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলা ভাষা৷ সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি ভাষাকে গ্রহণ করতে থাকেন সিয়েরা লিওনের জনগণ৷ ছড়িয়ে পড়ে বাংলা৷

শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশ গঠনে বাংলাদেশি সেনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালের ১২ ডিসেম্বর সিয়েরা লিওন সরকার বাংলাকে সেই দেশের অন্যতম সরকারিভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন৷ এ এক অভিনব ঘটনা৷ বাংলাদেশ ব্যতীত সিয়েরা লিওন হল একমাত্র রাষ্ট্র যারা বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে৷ যদিও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসমের শিলচরেও বাংলা সমান মর্যাদা পায়৷

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে