আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:২৬

‘সৎপাত্রী’ খুঁজতে লিফলেট বিলাচ্ছেন ‘বিয়ে পাগল’ যুবক

অনলাইন ডেস্ক
‘সৎপাত্রী’ খুঁজতে লিফলেট বিলাচ্ছেন ‘বিয়ে পাগল’ যুবক

ইনি বিয়ে করতে চান। একটি সৎ মেয়ে চাই শুধু। পেলেই টুক করে ভ্যালেন্টাইন দিবসের আগেই বিয়েটা সেরে ফেলতে চান। সুকুমার রায়ের ‘সৎপাত্র’ কবিতাটি মনে আছে? সেখানে গঙ্গারামের বিয়ে দেওয়ার জন্য কি ঘটকালিটাই না সেরেছিলেন কবি। কিন্তু ইনি টালিগঞ্জের গঙ্গারাম। এনার বিয়ের জন্য কাউকে অনুঘটক হতে হয়নি। নিজের বিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই উঠে পড়ে লেগেছেন অনুজ মন্ডল। রীতিমতো লিফলেট দিয়ে তিনি পাত্রী খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছেন।

ত্রিশ হয়ে গেল। বিয়ের করবে কবে?” সুঠাম , সুচাকুরে সুবোধ বালকের ঘরে এটা সাধারণ প্রশ্ন। মাসি-পিসির এমন প্রশ্ন থেকে প্রত্যেক ২৮ পেরোনো ‘বালক’ই পালিয়ে বাঁচতে চায়। আসলে আরও কিছুদিন পাখা মেলে উড়ে নেওয়ার চেষ্টা। বউ ঘরে ঢুকলেই সবেতে কাটছাঁট করতে হবে, এটা অলিখিত নিয়ম। না করলেই লম্পট স্বামী বলে ঘোষিত হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু টালিগঞ্জের অনুপ বাবাজীবন এসব টেনশন নেন না। ইনি টেনশন দেন। স্ব-ইচ্ছায় অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিতে চান তিনি। বিয়ে পাগল অনুজ কুমার মহানগরের রাস্তায় ঘুরে লিফলেট বিলি করছেন, শুধু একজন মনের মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য।

বছর ২৬-এর অনুপ খুঁজছেন একচিলতে ‘ভালো বাসা’। পেলেই লেগে পড়বেন সংসার জীবনে। অনুজের বাড়ি টালিগঞ্জের কবরডাঙার হসপিটাল মোড়ের কাছাকাছি। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি লিফলেট বিলি করছেন। লিফলেটে তিনি ফলাও করে লিখেছেন সে ২৬ বছরের সৎ ছেলে। জীবনে কোনওদিন প্রেম, ভালোবাসার পথ মাড়াননি। সবই অবশ্য প্রচুর ব্যস্ততার কারণে। এই চক্করে সারা জীবন তাঁকে অবিবাহিত থেকে যেতে হবে, সেটা একেবারেই চান না বাবাজীবন। তাই খোঁজ করছেন একটি সৎ পাত্রীর।

অনুজ জানিয়েছেন, “তিনি হিন্দু হতে পারেন, তবে পাত্রী যে কোনোও সম্প্রদায়েরই হতে পারে। এসবে তাঁর কোনও সমস্যা নেই।” সমস্যা শুধু ভালোবাসায় ধোঁকা খেলে। এই ধাক্কাটি তিনি সামলাতে পারবেন না। তাই চাহিদা শুধু এক সৎ পাত্রীর। পেলেই ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দেবেন।

সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে। নব বসন্তে বিড়াল মারতে পারলেই আরও ভালো হয় তাঁর। কিন্তু সৎ পাত্রের এমন বিদঘুটে বিয়ের ক্যাম্পেনিং করার ইচ্ছা কেন জাগল ? অনুপ বলেন, “খবরে কাগজে দিলে এত কথা মন খুলে বলতে পারতাম না। লিফলেটে দিলে মনের কথা ভালো বলা যায় ফলাও করে।” তাই এমন করা। কিন্তু এত হুড়োতাড়া কিসের? অকপট অনুজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সবারই বিয়ের ইচ্ছা থাকে। আমারও আছে। তাছাড়া বংশবৃদ্ধিও তো করতে হবে। না হলে কে আমার বংশ কে ধরে রাখবে বলুন।”

অনুজকে পাত্রীপক্ষ জামাই করে নিয়ে যাবেন কেন? কি এমন রয়েছে তাঁর কাছে? এবারেও স্ট্রেট ব্যাটে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি বলেন, “আমার ফিলিম লাইনে লোক পাঠানোর ব্যবসা আছে। আমার কাপড়ের ব্যবসা আছে। আরও অনেক কারবার করি। ভালোই রোজগার আছে। সবথেকে বড় কথা আমি সৎ।” তাঁর দাবি, অনুজের মতো পাত্র হাজারে একটা পাওয়াও শক্ত। তাছাড়া বাড়িতে বাবা মা আছেন। সুখের সংসার হবে। মেয়ে চাকরি করলে তাতেও বাধা নেই। সবেতেই সাচ্চা জামাই অনুজ।

তাই সাবধান অল দ্য আইবুড়ো পাত্রীগণ। অনুজ রেডি। বন্দুকের ঘোড়া রেডি। চাপ দিলেই ঢিচক্যাঁও… আওয়াজটা ফাঁকা বেরোবে না গুলি সমেত সেটা আপনার বাড়ির মেয়ে বুঝবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে