আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১০

এবার পর্ন আসক্তদের চিকিৎসায় হাসপাতাল

অনলাইন ডেস্ক
এবার পর্ন আসক্তদের চিকিৎসায় হাসপাতাল

নীল ছবির নেশায় রাত জেগে জেগে চোখ লাল। সামান্য বিশ্রামের ফাঁকেও নজর মোবাইল স্ক্রিনে। ‘রসদ’ না পেলে আর পাঁচটা নেশার মতোই ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ হচ্ছে। ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শৈশব-কৈশোর, ছাত্র-যুব। ‘পর্ন কুটিরে’ থাকার নেশায় আচ্ছন্ন মাঝবয়সি থেকে প্রৌঢ়ও। নীল নির্জনে থাকার আকুলতা গ্রাস করছে তামাম সমাজকে। তাই পর্ন আসক্তি দূর করতে ভারতে হাসপাতাল হচ্ছে।

বস্তি থেকে অট্টালিকা, শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র এক রোগ। তৃতীয় শ্রেণি থেকে কলেজ পড়ুয়া সবাই পর্নোগ্রাফি দেখার নেশায় বুঁদ। সেই ‘নীল’ নেশা কাটাতে এবার জেলায় যাবে পিজি হাসপাতাল! আরও ভালভাবে বললে পিজির ‘ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’ (আইওপি)। শেষ রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঠিক হয়েছে, উত্তরবঙ্গের বালুরঘাট ও দক্ষিণবঙ্গের আমতলায় মনোরোগের দু’টি স্যাটেলাইট সেন্টার চালাবে আইওপি। ডাক্তার, নার্স, সমাজবিজ্ঞানী নিয়ে গড়া ৮-১০ জনের দল সেখানে রোগী দেখবে। সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন আইওপি-র রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আইওপি-র অধিকর্তা ডা. প্রদীপ সাহা খবর জানিয়ে বলেন, “রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে মন্ত্রীর অনুমোদন মিলেছে। জানুয়ারি থেকেই স্যাটেলাইট সেন্টার দু’টি চালু করা হবে।”

এখন আইওপি-র আউটডোরে মনোরোগ নিয়ে হাজার হাজার রোগী আসছেন। অন্তর্বিভাগেও প্রচুর রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে। এদের একটা বড় অংশ পর্ন, ভিডিও গেম, ফেসবুকে আসক্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘বিহেভেরিয়াল অ্যাডিকশন’। এই অদ্ভুত ‘ভার্চুয়াল’ নেশায় আসক্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে শিশু-কিশোর, ছাত্র-যুব। কখনও আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যে, মোবাইল হাতছাড়া হলে পাগলের মতো দশা হচ্ছে। শরীর, মন, পড়াশোনার দফারফা। শুধু তাই নয়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে যৌন অপরাধ হু হু করে বাড়ছে। এমনটাই জানালেন মনোবিদ মৌসুমি মজুমদার।

ক্লাস থ্রি-ফোরের বাচ্চা লুকিয়ে বাবা-মায়ের মোবাইল নিয়ে স্কুলে আসছে। সহপাঠীদের মোবাইলবন্দি পর্ন দেখাচ্ছে। খিদিরপুরের একটি নামকরা স্কুলে বছর চারেক আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল। নিজের যৌন ক্ষুধা মেটাতে অনেক সময়ই বাড়ির খুদে সদস্যদের মোবাইলবন্দি পর্ন দেখাচ্ছেন বিকৃতকাম মামা-কাকু-দাদারা। হুগলির খানাকুলের একটি হোমে সম্প্রতি কাউন্সেলিং করতে গিয়েছিলেন মৌসুমিদেবী। দেখেন, ক্লাস এইটের এক ছাত্র নীল ছবির প্রতি ভয়ংকর আসক্ত। সুস্থ করার আশায় বাবা-মা তাকে হোমে পাঠিয়েছে। মৌসুমিদেবী জানালেন, “বাচ্চাটির সামনেই তাঁর বাবা-মা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। সেই দৃশ্য শিশুমনে এমন রেখাপাত করেছে যে বাচ্চাটি একটা সময় নীল ছবির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে।”

এমন অনেক উদাহরণ। বড়দের মধ্যেও পর্নের প্রতি আসক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। বাড়িতে সুন্দরী বউ। অথচ তাকে দেখে উত্তেজনা হচ্ছে না। পর্ন দেখে রাত জেগে হস্তমৈথুন করছেন বর। ভেঙে যাচ্ছে সংসার। এমন সমস্যা নিয়ে অনেক দম্পতি আসছেন আইওপি-তে। প্রদীপবাবু জানালেন, “পর্নে আসক্তি কয়েকটি অঞ্চলে মহামারির আকার নিয়েছে। সমীক্ষায় প্রকাশ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ দিনাজপুর এই ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে। তাই ওই দু’টি জেলায় স্যাটেলাইট সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফল হলে সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুর নিমহংস ‘বিহেভেরিয়াল অ্যাডিকশন’ ছাড়ানোর জন্য আলাদা ক্লিনিক করেছে। সেখান থেকেই আইডিয়াটা পাই। ঠিক হয়েছে, আইওপি-র টিমে থাকবেন তিনজন সাইকিয়াট্রিস্ট, দু’জন সাইকোলজিস্ট, দু’জন সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার ও দু’জন সাইকিয়াট্রিক নার্সিং ট্রেনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে