আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৫২

যে কারণে রোহিঙ্গাদের ‘নিরাপত্তা হুমকি’ ভাবছে ভারত

আন্তর্জাতিক
যে কারণে রোহিঙ্গাদের ‘নিরাপত্তা হুমকি’ ভাবছে ভারত

ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দু’জন রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছেন, তার শুনানিতে সোমবার একটি হলফনামা পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে দাবি করা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গারা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি’। এই হলফনামায় আরও বলা হয়েছে,পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গেও এসব রোহিঙ্গার যোগাযোগ রয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ষোলো পাতার ওই হলফনামাটির একটি প্রতিলিপি হাতে এসেছে। তাতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো এরকম__

১) জম্মু, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, হরিয়ানার মেওয়াট বা রাজস্থানের জয়পুরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার বসবাস, তারা ‘ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে’ জড়িয়ে পড়েছে।

২) অবৈধভাবে মানি লন্ডারিং করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করছে।হাওলার মাধ্যমে তাদের কারও কারও কাছে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো হচ্ছে―যা নাশকতামূলক কাজের জন্য পাঠানো বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।

৩) পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই  বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের মতো অনেকেই ভারতের এই রোহিঙ্গাদের টার্গেট করেছে।পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে কোনও কোনও রোহিঙ্গার যোগসাজশেরও প্রমাণ মিলেছে।

৪) আইএসআই  বা আইএসের মতো সংস্থাগুলো চাইছে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত হিংসায় উসকানি দিতে বা দাঙ্গা বাঁধাতে। এ কাজে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলোকে নতুন জঙ্গিদের ‘রিক্রুটমেন্ট বেস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৫) রোহিঙ্গাদের অনেকে অবৈধভাবে বা জাল প্রমাণপত্র দিয়ে ভারতের পাসপোর্ট বা আধার কার্ড, রেশন কার্ড ইত্যাদি পরিচয়পত্রও জোগাড় করে ফেলেছেন। তাদের অনেকের কাছে ভারতের আয়করদাতাদের জন্য নির্দিষ্ট প্যান কার্ড কিংবা ভোটার কার্ডও মিলেছে―যেগুলোর মাধ্যমে তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সমাজের মূল স্রোতে মিশে যেতে চাইছে।

৬) মিয়ানমারে রাখাইন স্টেটে তাদের ওপর হামলার বদলা নিতে এ দেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা ভারতের বৌদ্ধদের ওপর হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘র‍্যাডিকালাইজড রোহিঙ্গা’রা ভারতের মাটিতে বৌদ্ধদের আক্রমণের নিশানা করতে পারে বলেও হলফনামাতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সব অভিযোগের স্বপক্ষে ভারত সরকার ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া খবর ও অন্যান্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্র’র কথাই উল্লেখ করেছে―তবে তার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে আদালতকে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা চাইলে বন্ধ খামে করে সরকার এই সব গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে পেশ করতেও রাজি।

তবে ভারতের যে মানবাধিকার কর্মী, এনজিও ও অ্যাক্টিভিস্টরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকারের দাবিতে লড়ছেন তারা কিন্তু পাল্টা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দেশটিতে যে চল্লিশ হাজার মতো রোহিঙ্গার বসবাস, দেশের কোনও রাজ্যেই কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনও জঙ্গি বা ভারতবিরোধী মামলায় যুক্ত থাকার কোনও রেকর্ড নেই।

বস্তুত ভারত সরকার হিন্দু-শিখ-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-পার্সি সব ধর্মের শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার নীতি ঘোষণা করলেও শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের ধর্মের ভিত্তিতে জঙ্গি বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও এর আগেই টুইট করে বলেছেন, তিনি মনে করেন ভারতে আসা রোহিঙ্গারাও আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই―তারা কিছুতেই ‘সন্ত্রাসবাদী নন’।

কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামার মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে তাদের চোখে রোহিঙ্গারা একদল ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি’ ছাড়া কিছু নয় – কাজেই তাদের ভারত থেকে ফেরত পাঠানো ছাড়া উপায় নেই!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে