আপডেট : ১ মে, ২০১৬ ১১:১৭

দরিদ্র রিক্সাওয়ালার ছেলে আজ দিল্লির জেলা প্রশাসক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দরিদ্র রিক্সাওয়ালার ছেলে আজ দিল্লির জেলা প্রশাসক!

অভাবী রিক্সাওয়ালার ছেলে নিজের প্রচেষ্টা আর অদম্য ইচ্ছে শক্তির জোরে আজ দিল্লির জেলাপ্রশাসক। বারাণসীর ঘিঞ্জি পরিবেশে এক চিলতে ভাড়া করা ঘর ১২ বাই ৮ ফিট । কানে তুলো গুঁজে পড়ে চলেছে এক কিশোর। চারপাশে কারখানার অবিরাম শব্দ। কানে তুলো না দিলে পড়ায় মনোসংযোগ করা মুশকিল। বাড়িতে আছে এক দিদি আর ছোট দুই বোন। মায়ের মৃত্যুর পরে দিদিই সংসারের কর্ত্রী। ভাইবোনদের দেখভালের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন নিজের পড়াশোনা। বাবার রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয়‚ তা-ই দিয়ে অতিকষ্টে ভরাতে হয় পাঁচটা অভাবী পেট।

এভাবেই শৈশব কাটিয়েছেন গোবিন্দ জয়সওয়াল। যাঁকে কানে তুলো গুঁজে পড়তে হত স্কুল জীবনে। বেশির ভাগ সময়েই খালি পেটে। অভাবী সংসারে নিয়মিত খাবার পাওয়া ছিল স্বপ্নসম। সেই গোবিন্দ আজ ৩৩ বছর বয়সী একজন জেলাপ্রশাসক। দক্ষ হাতে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পূর্ব দিল্লিতে। ২০০৬ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করেছিলেন তিনি। মেধাতালিকায় পেয়েছিলেন ৪৮ তম স্থান।

শৈশবের একটি দূঃখজনক ঘটনা পাল্টে দেয় গোবিন্দ জয়সওয়ালের ভবিষ্যত পরিকল্পনা। যখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর তখন তার প্রতিবেশি এক ধনী শিক্ষিত পরিবারের বন্ধুর বাড়িতে খেলতে গিয়েছিলেন কিন্তু দরিদ্র,নিরক্ষর রিক্সাওয়ালার ছেলে হওয়ার কারণে তাকে সেখান থেকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ছোট্টএই ঘটনাই বদলে দিয়েছিল জয়সওয়ালের জীবন। সেদিনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন জীবনে সফল হবেনই।  

গোবিন্দ জয়সওয়ার তার সাফল্যের কাহিনী বলতে গিয়ে বলেন, ‘যে সমস্ত তরুণরা বঞ্চনা ও অভাবের মাঝে দিনাতিপাত করে তারা যদি সাহস আর ইচ্ছে শক্তি বলে সামনে এগিয়ে যায় তবে সাফল্য নিশ্চিত। অভাব মানুষের সাফল্য লাভের পথে কোন বাঁধা নয়। অদম্য ইচ্ছে শক্তি আর পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’

আজকের সফল জেলাপ্রশাসক গোবিন্দ মাঝে মাঝেই ফিরে যান শৈশবে। যখন পায়ের চোটের কারণে আর রিক্সাও চালাতে পারতেন না তাঁর বাবা‚ নারায়ণপ্রসাদ। রিক্সা মেরামতির কাজ করে মাসে ঘরে আনতেন হাজার পাঁচেক টাকা। পদ্মপাতার জলের মতই ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

স্কুল জীবনেই ঠিক করে নিয়েছিলেন গোবিন্দ। তাঁকে উঁচু দরের সরকারি চাকরি পেতেই হবে। টাকা নেই বলে ব্যবসা করতে পারবেন না। পাবেন না নিচুতলার সরকারি চাকরিও। কারণ সেগুলো টাকা দিয়েই বাঁধা পড়ে। তাই সিভিল সার্ভিসকেই পাখির চোখ করে নিয়েছিলেন হিন্দি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র গোবিন্দ। দিনে গড়ে ১৮ ঘণ্টা করে পড়তেও পিছপা হননি তিনি।

এটাও স্থির করে নিয়েছিলেন প্রথম বারেই হয় এসপার‚ নয় ওসপার। কারণ প্রতি বছর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই। পয়লা বারেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তাঁর ফল দেখে তাক লেগে গিয়েছিল সবার। দরিদ্র বাবার রাতজাগা চোখ ভিজে গিয়েছিল আনন্দাশ্রুতে।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে রাতারাতি পাল্টে যায় ছবি। আসতে থাকে অজস্র বিয়ের সম্বন্ধ। মেয়ের বাবারা ৪ কোটি টাকা বরপণ দিতেও রাজি। তবে রাজি হননি গোবিন্দ। অর্থের লোভে লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে চাননি তিনি। এখনও তিনি মনে করেন‚ প্রথম জীবনের দারিদ্র্যই তাঁর জীবনের সাফল্যের প্রধান অনুঘটক।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে