আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৩:২৭

ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে পারে পাকিস্তান!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে পারে পাকিস্তান!

ধর্মীয় উগ্রতার উর্বরভূমি পাকিস্তানের সংবিধান থেকে বাদ দেয়া হতে পারে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। পাকিস্তানকে কিভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিনত করা যায় সে বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির হাইকোর্ট। অবশ্য সে ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে জয় লাভ করে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবেই তা বাস্তবায়ন করার যুক্তি দেখিয়েছে দেশটির প্রধান বিচারপতি।

পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের দুটি সংশোধনীর শুনানিতে যে মত দেয় তাতে বলা হয়, পাকিস্তানের পার্লামেন্ট চাইলে বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে পাকিস্তানকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। ২০১৫ সালে ৫ মার্চ পাকিস্তানের সংবিধানের ১৮ ও ১৭তম সংশোধনীর শুনানির সময় পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি নসিরুল মালিক এই পর্যবেক্ষণ দেন।

১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে ১৭ ও ১৮তম সংশোধনী আনা হয়। পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ গঠন হলে পাকিস্তান এই দুটি সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের সংবিধান সংশোধন করে।

রিটের শুনানিতে পাকিস্তানে ১৭ জন বিচারক অংশগ্রহণ করেন। তারা তাদের পর্যবেক্ষণে বলেন, ১৯৪৭ সালে পশ্চিম ও পূর্বপাকিস্তান নিয়ে ইসলামি রিপাবলিক পাকিস্তান গঠন হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে পূর্বপাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ গঠন করে। তাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাখা হয়। সেই বিবেচনায় পাকিস্তানের সংবিধানেও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রণয়ন করা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পাকিস্তানে একটি জনপ্রিয় দাবি রয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষতার। এই হিসাবে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে ধর্মনিরক্ষেতার দাবি নিয়ে জয়ী হয়ে আসলে সংবিধান তারা সংশোধন করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের চিন্তা পরিবর্তন করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক ও চীনের জনগণ যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের সংবিধান পাল্টিয়ে ফেলেছে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে