আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১৭

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত!

বিডিটাইমস ডেস্ক
যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত!

ভারত-চীন এ দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে গত এক দশক ধরেই থেমে থেমে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। বিভিন্ন কারণে চীন-ভারত সম্পর্কের পারদ দিন দিন বেড়েই চড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নাকি ভারত চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, চীনকে অতীতে বিশ্বাস করে তাদের ঠকতে হয়েছিল। ১৯৬২ সালের মতো আবার আচমকা সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারে চীন। চীন যে শুধু অর্থনৈতিক লড়াই বা ইকনমিক ওয়ার চালাচ্ছে তাই নয়। তারা যে কোনওদিন পেশি শক্তি নিয়ে ভারতের উপর ঝাঁপাবে। ভারতের সেনা ও গোয়েন্দারাও এমন বদ্ধমূল ধারণা পোষণ করেন।

সম্প্রতি পেন্টাগনকে পাঠানো মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে এসব তথ্যই উঠে এসেছে। মার্কিন সিনেটের সিলেক্ট কমিটির সামনে ওই রিপোর্ট শীঘ্রই পেশ করা হবে। আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ডিরেক্টর জেমস ক্ল্যাপার ওই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন।

জেমস ক্ল্যাপার বলেন, ‘ভারত, চীন দু’দিক থেকেই বাকযুদ্ধ চলছে। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত ছাড়াও ভারত মহাসাগর ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেজিং আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে। আমরা এটা জানতে পেরেছি যে চীনের আগ্রাসী ভূমিকায় আশঙ্কিত হয়ে ভারত নিজেদের প্রস্তুত করছে।’

ক্ল্যাপার আরও বলেন, ‘ভারত-চীন যুদ্ধ এখনই হওয়ার সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। তবুও ভারতীয় সেনা নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে যুদ্ধের জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ল্যাপারের মতে, লো ইনটেনসিটি ওয়ার বা লিমিটেড ওয়ার হতে পারে ধরে নিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করছে দিল্লি।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রণকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, অরুণাচল, ভূটান, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ সীমান্তে অতিরিক্ত তিন ডিভিশন সেনা মোতায়েন করেছে ভারতীয় সাউথ ব্লক। কমপক্ষে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে গত তিন মাসে। উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচল ও লাদাখে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি চালাচ্ছে ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ ও সেনা হেলিকপ্টারগুলি। বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটি ও হেলিপ্যাড নতুন করে তৈরি করা হয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে।

বোফর্সের বেশ কিছু ব্যাটারি ও মাঝারি পাল্লার কামান, রকেট লঞ্চারের প্রচুর ইউনিট লাদাখ, অরুণাচলে নিয়ে আসা হয়েছে। চীন সীমান্তে রাতে জারি থাকছে চূড়ান্ত সতর্কতা। আন্দামান-নিকোবরে যেমন চূড়ান্তে সতর্ক রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী তেমনি ভারত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপরও নো এন্ট্রি কার্যকর করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের দীর্ঘদিনের দাদাগিরি রুখতে কূটনৈতিক লড়াইয়ে অনেকটাই নাকি সাফল্য পেয়েছে ভারত।

ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে ভারত পুরোপুরি পাশে পেয়ে গেছে কট্টর চীন বিদ্বেষী ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং কাম্বোডিয়াকে। আর্থিক ও বাণিজ্যিকভাবে ওই দেশগুলি গত এক দশকে চীনের দিক থেকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের সামগ্রিক আগ্রাসন রুখতে ভারত যতটা তাদের পাশে চায়, একইভাবে তারাও চায় ভারতের মতো আর্থিক ও সামরিক শক্তিসম্পন্ন দেশ তাদের পাশেও থাকুক। এই চীনবিরোধী বার্তা দিতেই জাপান, তাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন। ক্ল্যাপারের উক্ত বার্তায় বলা হয়েছে, চীন-ভারত যুদ্ধ যে হবেই তা নিয়ে নিশ্চিত নয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। কিন্তু অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং চলতি টেনশনের কথা মাথায় রেখেই কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। কারণ, লাল ফৌজ বেশ কয়েকবার লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের হুমকি দিয়েছে। কপ্টারে চড়ে তারা সীমান্ত লঙ্ঘন করে উসকানিমূলক লিফলেট ছড়িয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকায় ভারতীয় সংস্থাগুলি যাতে তেল ও খনিজ তোলার বরাত না পায় তার জন্য সবরকমভাবে চেষ্টা চালায় বেইজিং।

নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদ পাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে চীন সমর্থন করলেও কার্যক্ষেত্রে তারা বাধাই দিচ্ছে। ভারতীয় সরকারি, বেসরকারি সংস্থাগুলির সাইট হ্যাক করছে, সন্ত্রাসদমন ও কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে গলা মিলাচ্ছে। তাই চুপ করে বসে থাকতে রাজি নয় দিল্লি। তার চেয়েও বড় কথা হল, এশিয়া এবং তার বাইরে বৃহত্তর ভূমিকা নেওয়ার জন্য চীনের লাল ফৌজ যে অতি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে তাতে পুরো অনুমোদন আছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এটাই চিন্তার কারণ নয়াদিল্লির। তেমনি চিন্তার কারণ ওয়াশিংটনেরও।

বিশ্লেষকরা ধারণা করে বলেছেন, এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন-ভারতের মধ্যে ছোট কোনো প্রকার যুদ্ধও পুরো এশিয়ার সাথে সাথে বিশ্ব রাজনৈতিকে অস্থির করে তুলবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে