আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪৫

মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় সুড়ঙ্গ পথে পাচার হয় গাঁজা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় সুড়ঙ্গ পথে পাচার হয় গাঁজা!

এক দিকে মেক্সিকোর একটি রেস্তোরাঁ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের একটি বাড়ি; মাঝে ৪১৫ গজ দীর্ঘ সুড়ঙ্গ দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল গাঁজা।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বুধবার মাদক কারবারিদের ওই সুড়ঙ্গ খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে বলে রয়টার্সের খবর।

সিএনএন জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে মেক্সিকো থেকে নির্বেঘ্নে মাদক পাচারের কাজটি সারতে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালেক্সিকো শহরে রীতিমতো জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে তার নিচে ওই সুড়ঙ্গ খুঁড়েছিল চোরা কারবারিরা। সুড়ঙ্গের অপরপ্রান্ত শেষ হয়েছে মেক্সিকোর মেক্সিকালি শহরের একটি রেস্তোরাঁর নিচে।

অবশ্য পাচার করে আনা মাদকদ্রব্য সীমান্ত থেকে ৩০০ গজ দূরে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই বাড়িতে রাখা হতো না; মজুদ করা হতো চার মাইল দূরে অন্য একটি বাড়িতে। পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে চালান হয়ে যেত সেই মাদক।

গত ৭ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট কভিনা থেকে ১৩৫০ পাউন্ড মারিজুয়ানার একটি চালান জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ, ওই চালান ক্যালেক্সিকোর সেই বাড়ি হয়েই এসেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

সিএনএন জানিয়েছে, ওই বাড়ির সামনের ঘরের মেঝেতে তিন ফুট ব্যাসের একটি গর্ত দিয়ে ৩২ ফুট নামলেই মেক্সিকোগামী সুড়ঙ্গ। গাঁজার চালান আনার সুবিধার জন্য সেখানে রেল লাইন বসানো হয়েছে। আছে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থাও।

ওই বাড়ি হয়ে পাচার করে আনা ১৫৩২ পাউন্ড মারিজুয়ানাসহ জোয়েল দুয়ার্তে মেদিনা ও মেনুয়েল গ্যালেগোস জিমিনেজ নামের দুই জনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। আটক মাদকের বাজারমূল্য আনুমানিক ছয় মিলিয়ন ডলার বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য।

জমির মালিক মার্সিয়া মেনুয়েল দুয়ার্তে মেদিনা ও তার মা ইভা দুয়ার্তে দে মেদিনাকেও মঙ্গলবার অ্যারিজোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ও অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আটক চারজনের বিরুদ্ধে।

রয়টার্স লিখেছে, পাচারকারীরা দুই লাখ চল্লিশ হাজার ডলার দিয়ে ক্যালেক্সিকো শহরে ওই জমি কিনে আরও ৮৬ হাজার ডলার খরচ করে বাড়ি বানায়।

গত বছর অক্টোবরে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মেঝের সিমেন্ট ঢালাইয়ের সময় বাড়ির মালিক কিছু অংশ খালি রাখতে অনুরোধ করেছিলেন বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ‘কনক্রিট কাটার’ নিয়ে আসে পাচারকারীরা। ওই যন্ত্র দিয়েই সুড়ঙ্গটি খোঁড়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএনএন জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে মাদক পাচার শুরু হয়।ওই সময় থেকে বাড়িটির উপর নজর রাখা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থাগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রে এর আগেও মাদক পাচারের সুড়ঙ্গের দেখা মিলেছে। মাটি নরম ও অসংখ্য ওয়্যার হাউজ থাকায় সান ডিয়াগোর ওটে মেসা সীমান্তে এ ধরনের অনেক সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে অতীতে।

ক্যালেক্সিকোর মাটি তুলনামূলক শক্ত এবং শহরটির বৈশিষ্ট পাচারকারীদের জন্য সুবিধাজনক না হওয়ায় সুড়ঙ্গ আবিষ্কারের ঘটনায় বিষ্মিত তদন্তকারী সংস্থা ও শহরের অধিবাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান উরিয়াকে উদ্ধৃত করে সিএনএন লিখেছে, “এটা একটা শান্তিপূর্ণ এলাকা... এটা পাগলামি, স্রেফ পাগলামি।”

তার প্রতিবেশী ইয়োলেন্দা সানচেজ বলেন, “নতুন বাড়ি দেখে আমরা খুশিই হয়েছিলাম। একবার এক লোক আর এক নারীকে কয়েক মিনিটের জন্য  ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখেছিলাম। আর আজ সকালে দেখলাম অনেক পুলিশ, হেলিকপ্টার।  “আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাবছিলাম, কী এমন ঘটলো! এরপর দেখলা সুড়ঙ্গ।”

সিএনএন লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা গত পাঁচ বছরে মেক্সিকো সীমান্তে এরকম অন্তত ৭৫টি সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছে, যার বেশিরভাগই ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনা সীমান্তে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে