আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫৩

বিএনপির কাউন্সিলে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ এমপির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিএনপির কাউন্সিলে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ এমপির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মেয়েদেরকেই পছন্দ করেন সায়মন ড্যানজাক এমপি। তিনি অটপটে স্বীকার করেছেন মানুষ ভেদে পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে তার পছন্দ কম বয়সী মেয়ে। প্রথম স্ত্রী ড্যানজাকের চেয়ে ১০ বছরের ছোট, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ড্যানজাকের বয়সের পার্থক্য ছিলো ১৭ বছর, আর তৃতীয় স্ত্রীর বয়সও তার চেয়ে ১০ বছর কম!

তবে অল্প বয়সী এমন মেয়েদের প্রতি তার আসক্তির কারণে তিনি অবশ্য অনুতপ্ত। নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে। ব্রিটেনের শীর্ষ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান‘র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডেটিং-এর কথা বলে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৬ সালে সংঘটিত একটি ঘটনার তদন্ত করছে রচডেল পুলিশ।

সায়মন অবশ্য বলেছেন, এ ধরণের প্রতিহিংসা পরায়ণ অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। পুলিশ তার সঙ্গে কোনও ধরণের যোগাযোগ না করায় তিনি আহত হয়েছেন। পুলিশকে তিনি তদন্ত কাজে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সায়মনের ৩৯ বছর বয়সী সাবেক স্ত্রী সোনিয়া তাকে একজন দাগী যৌন শিকারি বলে অভিহিত করেছেন। কারণ সায়মন ১৭ বছর বয়সী তরুণীর মোবাইলে যৌন উত্তেজক মেসেজ পাঠিয়েছেন।সফিনা হুলিহান নামে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ওই তরুণী সায়মনের নির্বাচনী অফিসে চাকুরি করার সুযোগ চাওয়ায় সায়মন তাকে যৌন উত্তেজক মেসেজ পাঠান। অপ্রাপ্ত বয়স্ক তরুণীকে যৌন উত্তেজক মেসেজ পাঠানোর অভিযোগে গত ডিসেম্বরে সায়মন ড্যানজাক এমপিকে লেবার পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়।

শুধু যৌন হয়রানির অভিযোগই নয়, অন্যায়ভাবে সায়মন তার সন্তানদের জন্য লন্ডনে বাড়িভাড়া বাবদ ১১ হাজার পাউন্ড ভুয়া খরচ দেখিয়েছেন, যা ফেরত দিতে বলেছে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্লামেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অথোরিটি। ইংল্যান্ডের রচডেল আসন থেকে লেবার দলীয় এমপি সায়মন ড্যানজাকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও তিনি কেমন করে বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে নানা মহলে।

ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে কেন বিএনপির কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানানো হলো, জানতে চাইলে বিএনপির বিগত কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বা তার পার্টির ওয়েবসাইটে তো এসব বিষয়ে কোনও ব্রিফ ছিল না। এ কারণে এটা আমাদের জানার কথা না। জানিও না। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য নেই।

তবে বিএনপির কাউন্সিলে এমন বিতর্কিত ব্রিটিশ নাগরিকের অংশগ্রহণ  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা ও যোগাযোগের দক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র জানিয়েছে, সায়মন ডানজ্যাক বাংলাদেশে ভিসা প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করেননি। তিনি ঢাকা এয়ারপোর্টে অন অ্যারাইভাল ভিসা গ্রহণ করে বিএনপির কাউন্সিলে যোগ দিয়েছিলেন।সুত্রঃ ট্রিবিউন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে