আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১১:০৯

ডোনান্ড ট্রাম্প’র কাঁচা ভাষা

বিডিটাইমস ডেস্ক
ডোনান্ড ট্রাম্প’র কাঁচা ভাষা

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বড্ড কাঁচা ভাষায় বক্তৃতা দেন। রিপাব্লিকান এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তার প্রচারাভিজানে যে ধরনের ব্যকরন ব্যবহার করেন তার সাথে ১১ বছরের কিংবা তারও নিচের বয়েসী যে কোন আমেরিকান ছাত্রের ভাষা মিলে যায়।

টেড ক্রুজ এবং মারকো রুবিও তাদের ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেডিং অনুযায়ী ১১-১৪ বছররের কিশোরদের মত, আর যুক্তরাজ্যের গ্রেডিং অনুযায়ী ৬-৮ বছর বয়েসী শিশুদের মত।

কিন্তু তাদের ব্যবহার করা শব্দ গুলো আরেকটু উপরের গ্রেডের, যা মিলে যায় ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়েসী কিশোরদের সাথে।

কার্নেগী মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ভাষা প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (ETI) বিশ্লেষনকারীরা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়া পদপ্রার্থীদের বক্তৃতা বিশ্লেষন করেন। এই বিশ্লেষনের দ্বারা তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন বক্তৃতার একটি পাঠযোগ্য মানদন্ড। তারা প্রতিটি প্রার্থীর প্রচার বক্তৃতা,  জয় এবং পরাজয়ের পর দেয়া বক্তৃতার প্রতিলিখন বিশ্লেষণ করেন।

এই বিশ্লেষনে উঠে আসে, বার্নি স্যান্ডার্স দ্বারা ব্যবহৃত শব্দগুলো হিলারি ক্লিনটন দ্বারা ব্যবহৃত শব্দের চেয়ে আরো অধিক উন্নত।

এছাড়াও গবেষকরা বিগত নেতাদের সাথে বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বক্তৃতাগুলির তুলনা শুরু করেছেন।
ঐতিহাসিক এই পর্যালোচনায় দেখা যায় আব্রাহাম লিঙ্কন, যিনি ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাঁর ভাষার দক্ষতা ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকা রোনাল্ড রেগান থেকে আরো বেশী উন্নত ছিল।

এদিকে জর্জ ডব্লিউ বুশ, যে কোন ক্ষেত্রেই যার ব্যাকরণ দক্ষতা ছিল উন্নত স্তরের। এখানে আরো বলা যায় বুশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ব্যাকরণ দক্ষতা প্রায় একই পর্যায়ের ছিল।

একজন বিশ্লেষক ‘এলিয়ট শুমাখার’ জানান ট্রাম্প এবং হিলারীর বক্তৃতার মধ্যকার ভাষাগত তুমুল পার্থক্যের কথা। যেখানে তিনি ইঙ্গিত করেন - এ দুজনের প্রচারনাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে টেনে নেবার মন্ত্রস্বরুপ যে বক্তৃতার পৃষ্ঠা, তাতে ভাষাগত দিক থেকে তারা কে, কি ধরনের কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

আরেকজন বিশ্লেষনকারী ম্যাকজিন এসকেনাজি জানান, ‘এই প্রচারকালীন বক্তৃতার পাঠযোগ্যতা মাপার মধ্যে কিছুটা চতুরতা আছে কেননা লিখিত বক্তৃতার শব্দগুলো বরাবরি বেশ জোড়ালো হয়, যদিও বক্তৃতার জন্য লিখিত শব্দ যা দেখে বলে যান বক্তৃতাকারীরা আর মুখে বলা শব্দ যা মঞ্চেরই তাৎক্ষনিক প্রকাশ এই দুটোর মধ্যে ব্যপক তফাৎ রয়েছে।'

তিনি আরো বলেন – ‘আমরা যখন কথা বলি, সাধারনত ব্যবহার করি কম সাজানো ভাষা, যা ছোট ছোট বাক্যের মাধ্যমে আমরা প্রকাশ করে থাকি।'

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জামি

উপরে