আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৬ ০৯:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে সংলাপেও অর্থ চুরি প্রসঙ্গ

ফিলিপাইন কালো টাকার স্বর্গরাজ্য

বিডিটাইমস ডেস্ক

ফিলিপাইন কালো টাকার স্বর্গরাজ্য

ফিলিপাইনের ব্লু রিবন সিনেট কমিটির সদস্য সের্গিও ওসমেনা বলেছেন, ‘ফিলিপাইন কালো টাকার (ডার্টি মানি) স্বর্গরাজ্য। মুদ্রা পাচারকারী ও অপরাধীদের সবচেয়ে পছন্দের স্থান এটি।

কেননা খুব সহজেই এখান থেকে টাকা অতলে পাঠিয়ে দেয়া যায়।’ ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রোববার এ কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি করা অর্থ ক্যাসিনোর মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যাওয়া নিয়ে ফিলিপাইনে তুমুল সমালোচনা চলছে। এবার এর ঝাপটা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন স্ট্র্যাটেজিক সংলাপেও। শনিবারের (বাংলাদেশে রোববার) ওই বৈঠকে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয় দু’দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য উঠে আসে।

মুদ্রা পাচার রোধে ব্যর্থতার জন্য ফিলিপাইনের মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (এএমএলসি) প্রধান আমান্দো টেটাংক ও সদস্যদের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। স্থানীয় দৈনিক ম্যানিলা টাইমসের এক নিবন্ধে রোববার এ দাবি তোলেন রিগোবের্তো তিগলাও নামে এক বিশিষ্টজন।

কালো টাকার স্বর্গরাজ্য : ব্যাংকিং নিরাপত্তা আইন ও ক্যাসিনোগুলোকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা নিয়ে ক্ষুব্ধ সের্গিও ওসমেনা। রিজার্ভ চুরির ঘটনা ওপন্যাসিকদের গোয়েন্দা উপন্যাসের গল্পের জোগান দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ওসমেনা বলেন, দস্যুদের জন্য সবচেয়ে ভালো স্থান ফিলিপাইন। কেননা এখানে ব্যাংক ও ক্যাসিনো ব্যবহার করে দস্যুরা কালো টাকা নিমিষেই সরিয়ে ফেলতে পারে। আবার তাদের শনাক্ত করার পথও সহজ নয়।

ওসমেনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থ চুরির ক্ষেত্রেও তেমটিই ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চার দিন সময় নিয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে টাকা উধাও। জীবন নাশের হুমকি, ঘুষ, অদৃশ্য ব্যবসায়ী কিংবা একজন খলনায়ক ব্যাংক ম্যানেজার- যেভাবেই হোক টাকা চলে গেছে দুর্বৃত্তদের কাছে, অতলে।

এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজাল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যাংক ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতো দাবি করে বলেন, ‘আমি ভুল কিছুই করিনি। আমি একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিলাম। এখন জেগে উঠেছি। প্রতিটি দিন আমার কেটেছে অত্যন্ত ভয়ের মধ্যে।’ ওসমেনা বলেন, আসলেই মায়ার কিছুই করার ছিল না, পরিকল্পনাকারী সাইবার দুর্বৃত্ত বা দস্যুদের খেলার পুতুলে পরিণত হয়ে টাকা ছাড় করার বিকল্প ছিল না তার। আর নিমিষেই সেই টাকা চলে যায় আইনের আওতার বাইরে। ওসমেনা আরও বলেন, মায়া অভিযোগ করেছেন, তার ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জ টানই তাকে টাকা ছাড় করতে বলেছিলেন। তার পক্ষে ওই নির্দেশ না মানার উপায়ও ছিল না। আমরা তদন্ত করে দেখেছি, মায়া বলির পাঁঠা কিনা? প্রমাণ পেয়েছি সে টাকা চুরির হোতা নয়।

আরেক সিনেটর রালফ রেকটো বলেন, এটা একটা বড় অভিযান, ফিলিপাইনকে বাদ দিয়ে এমনটি করা সম্ভব ছিল না। তদন্তে দেখা গেছে, টাকা স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা ক্যামেরা পর্যন্ত অকার্যকর ছিল। আর টাকাগুলো ক্যাসিনো যাওয়ামাত্রই হাওয়া হয়ে গেল!- বলেন মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (এএমএলসি) অন্যতম সদস্য সিনেটর জুলিয়া আবদ। কিন্তু এখন ব্যাংকের বিরুদ্ধে, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত করবে কে? সিনেটররা তাই ব্যাংক নিরাপত্তা আইন সংস্কার ও ক্যাসিনোগুলোকে মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

সংলাপ : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রেস ব্রিফিংয়ে রোববার প্রতিনিধি কার্বি বলেন, সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ষষ্ঠ-বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিজেদের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও সব ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ানোর প্রয়োজনে দু’দেশ একমত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ছিল। ভুয়া আদেশের বিপরীতে সেখান থেকেই ফিলিপাইনের এক ব্যাংকে চার হিসাবে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায়। যা পরে ক্যাসিনোতে ঢোকে। শুনানিতে পাওয়া দেগুইতোর বক্তব্যের ভিত্তিতে সিনেটররা মনে করছেন এ ঘটনার মূল হোতা চীনা নাগরিক ও ব্যবসায়ী কিম অং।

সূত্র-যুগান্তর

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে