আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৭

ফেসবুকে 'লাইক' কেনার অভিযোগ অস্বীকার কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফেসবুকে 'লাইক' কেনার অভিযোগ অস্বীকার কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

নিজের ফেসবুক পেজের জন্য 'লাইক' কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান সেন। জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ফেসবুক পেজে 'লাইক' কেনার অভিযোগ উঠার পর তা অস্বীকার করেন তিনি।

৬৩ বছর বয়সী এ রাজনীতিক নিজেকে একজন 'ডিজিটাল ডাইনোসর' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রতিদিন তার ফেসবুক পেজে একাধীক পোস্ট দেয়া হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার নামে ফেসবুকে একটি পেজ তৈরির পর এ পর্যন্ত তাতে ৩২ লাখ লাইক পড়েছে।
গত সপ্তাহে কম্বোডিয়ার দৈনিক 'নমপেন পোস্ট' এক প্রতিবেদনে জানায়,  হান সেনের ফেসবুক পেজের বেশিরভাগ লাইকই দেশের বাইরে থেকে দেয়া। শুধু ভারত থেকেই তার ফেসবুক পেজে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯২টি লাইক রয়েছে; এছাড়া ফিলিপাইন থেকে ৯৮ হাজার ২৬টি, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ৪৬ হাজার ৩৬৮টি করে লাইকসহ আরও কয়েকটিপ দেশ থেকে হান সেনের ফেসবুক পেজে লাইক রয়েছে।

বিষয়টি জানার পর কম্বোডিয়ার বিরোধীদলের নেতারা হান সেনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে 'লাইক' ক্রয়ের অভিযোগ তোলেন।

২০১৩ সালের নির্বাচনে কম্বোডিয়ার বেশিরভাগ তরুণ 'কম্বোডিয়া ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টি'কে (সিএনআরপি) ভোট দেন। নির্বাচনে হিসাবে সামান্য ভোটের ব্যবধানে দলটি হেরে যায়।
সিএনআরপি'র নেতা স্যাম রেইনসির সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হান সেনের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নির্বাসনে থাকা বিরোধীদলীয় এ নেতার ফেসবুক পেজে রয়েছে ২৩ লাখ লাইক যার বেশিরভাগই কম্বোডিয়ার জনগণ ভালবেসে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার কম্বোডিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেয়ার সময় হান সেন তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমি ঠিক জানি না এত লাইক আসলে কোথা থেকে আসছে।'
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে লাইক কেনার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছেন সিআরএনপি নেতা রেইনসে। তিনি বলেছেন, 'ভারতে লাইক কিনতে পারলে আমি তার চেয়েও বেশি শক্ত অবস্থানে থাকতাম। তারপরও আমি খুশি এটা ভেবে যে, ভারতসহ অন্যান্য দেশের লোকজন অন্তত হান সেনকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতিটুকু দিয়েছেন।'

নীতিগতভাবে ফেসবুক যদিও ভুয়া আইডি তৈরির ব্যাপারে নিষেধ করে এবং মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়। কিন্তু তথাকথিত কিছু 'ক্লিক ফার্মের' মাধ্যমে ফেসবুকে 'লাইক' কেনা খুব অসম্ভব ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় রাজনীতিবিদ, তারকা খেলোয়াড় ও অভিনেতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। সূত্র: বিবিসি

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে