আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০০

‘বাংলাদেশি মুসলমানদের' শরণার্থী হতে হবে!

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
‘বাংলাদেশি মুসলমানদের' শরণার্থী হতে হবে!

আবার বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছে ভারতের শাসক দল বিজেপি৷ আসামের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশি মুসলমানদের' বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে তারা৷

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও বাংলাদেশ থেকে আসামে যাওয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া বক্তব্য দিতে শুরু করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷ তখন বিজেপির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও বলেছেন, বিজেপি যদি সরকার গঠন করে তাহলে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলমানদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে৷ এ জন্য ‘বাংলদেশি মুসলমানদের' বাক্স-প্যাটরা গোছানোর কথাও বলা হয়েছিল তখন৷

আগামী এপ্রিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ মোট পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন৷ আসামে নির্বাচন হবে ৪ঠা ও ১১ই এপ্রিল৷ পশ্চিমবঙ্গে ৪ঠা এপ্রিল থেকে শুরু করে সাতদিন ধরে চলবে ভোট৷

আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে আসামে আবার ‘বাংলদেশি মুসলমান' ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে বিজেপি৷ হিন্দুত্ববাদী দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসামে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলে ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলমানদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে৷

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসামে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলে তারা ১৯৭১-এর পরে যাওয়া বাংলাদেশি মুসলমানদের ফেরত পাঠাবে৷ আর ১৯৫০ থেকে ১৯৭১-এর আগে যেসব মুসলমান বাংলাদেশ, অর্থাৎ তখনকার পূর্ব পাকিস্তান থেকে গেছেন, তাঁদের ভারতেই রাখা হবে; তবে তাঁদের পূর্ণ নাগরিকের মর্যাদা না দিয়ে শরণার্থীর মর্যাদা দেয়া হবে৷

আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনি প্রচার দেখভাল করার সার্বিক দায়িত্ব পেয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা৷ ১৯৫০ থেকে ১৯৭১-এর আগে যাওয়া মুসলমানদের প্রসঙ্গে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘‘১৯৭১-এর আগে প্রায় ২০ লক্ষের মতো শরণার্থী এসেছে৷ তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা অর্থনীতি এবং শিক্ষায় উন্নতি করুক৷ তবে তাদের শরণার্থীর মর্যাদাই পাওয়া উচিত৷ কেউ যদি আবেদন জানিয়ে নাগরিকত্ব পেয়ে যায়, সেটা অন্য ব্যাপার৷ ''

৪৫ থেকে ৬৬ বছর আগেও যাঁরা আসামে গেছেন তাঁদের ব্যাপারে বিজেপির এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আসামের মুসলমানদের মাঝে শঙ্কা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে৷ অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর নেতা আমিনুল ইসলাম মনে করেন, ভারতের মুসলমানদের একাংশের অবস্থা এখন রোহিঙ্গাদের মতো৷ তিনি বলেন, ‘‘(মিয়ানমারের) রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী হয়েছে তা আমরা জানি৷ একইরকম ঘটনা আমাদের সঙ্গেও ঘটতে পারে৷''

আসামের ইসলামি দলগুলো ইতিমধ্যে বিজেপির প্রচারণার বিপরীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবেই তুলে ধরতে শুরু করেছে৷ আসামের এক ছাত্রনেতা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘ভারতের বৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশি বলে দেয়া হচ্ছে৷ ভারতীয় সংবিধানের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে৷ বিজেপি যা খুশি তাই করতে পারে না৷''

ভারতের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই অবশ্য মনে করেন, আসামের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘বাংলাদেশি মুসলমান' বিরোধী বক্তব্য শুধু ভোট বাড়ানোর কৌশল৷

উপরে