আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫৫

লন্ডনে ‘গো-মূত্র’ বিক্রির হিড়িক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লন্ডনে ‘গো-মূত্র’ বিক্রির হিড়িক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মাঝেমধ্যে গো-মূত্রের নানা গুণাবলীর কথা শোনা গেলেও খোদ লন্ডনে এই বস্তুটির রমরমা ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেছে! সেখানে কিছু দোকানে বোতলে ভরে রীতিমতো লেবেল লাগিয়ে গো-মূত্র প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

অনেক দোকানে দেখা গেছে, যে শেলফে পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে সেটিরই নিচের তাকে গো-মূত্র রয়েছে, বোতলের গায়ে দামও লেখা রয়েছে। দোকানের কর্মকর্তারা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে এটি কিনতে আসেন। এটি তাদের ধর্মীয় আচারের সঙ্গে জড়িত। শিশু জন্মের পর যে পূজা করা হয়, তাতে ‘শুভকামনায়’ অনেকে গো-মূত্র ব্যবহার করেন।

জানা গেছে, ওয়াটফোর্ডে অবস্থিত হরে কৃষ্ণ মন্দির, ভক্তিভেদান্ত মানর এসব ধর্মীয় স্থাপনাগুলোরও ডেইরি ফার্ম রয়েছে। যেখান থেকে ‘গো-মূত্র’ সংগ্রহ করা হয়।

মন্দিরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌরি দাস বলেন, ‘আমরা সত্তরের দশক থেকে গো-মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করে আসছি। দক্ষিণ এশিয়ানদের অনেকের কাছে এর বিরাট চাহিদা রয়েছে। অনেকে এটিকে পূজার কাজে ব্যবহার করেন। আবার অনেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করেন। এমনকি কোনো জিনিস শুদ্ধ করার কাজেও অনেকে গো-মূত্র ব্যবহার করেন।’

বস্তুটির স্বাদ কেমন? জানতে চাইলে ওই মন্দিরের সদস্য প্রদীপ বলেন, ‘স্বাদে তিতা, আমার কাছে ওষুধের মতো মনে হয়।’

তবে ব্রিটেনের দ্য ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি বলছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য গরুর মূত্র এভাবে বিক্রি করা অবৈধ। অবশ্য ত্বকের ময়লা পরিষ্কার বা এরকম বাহ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে খাদ্য এটি বিক্রিতে আইনি বাধা নেই।

দোকানিদের যুক্তি মানুষের খাদ্য হিসেবে তারা এটি বিক্রি করেন না। বরং পূজারি এবং ভক্তদের জন্য, তাদের পূজার কাজে ব্যবহারের জন্য এটি বিক্রি করেন। এটি নিয়ে উচ্চবাচ্য করার কোনো যুক্তি আছে বলে তারা মনে করেন না।

এদিকে খাদ্য বহির্ভূত পশু পণ্যগুলো লন্ডনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এমনকি আমদানিকৃত পণ্যগুলোও ভালোভাবে যাচাইবাছাই করা হয়। কিন্তু লন্ডন স্থানীয় সরকারের কাছে গো-মূত্র বিক্রির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে