আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ১০:০৮

ব্যাগভর্তি মূল্যবান সম্পদ রেখে যুবকের আত্মহত্যা!

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাগভর্তি মূল্যবান সম্পদ রেখে যুবকের আত্মহত্যা!

অভাব অনটনে পড়ে অনেকেই আত্মহুতি দিতে আসেন গঙ্গায়। কিন্তু এবার সেখানে ঘটলো একেবারে উল্টো ঘটনা। মূল্যবান অনেক সম্পদভর্তি ব্যাগ নিয়ে গঙ্গায় এসে আত্মহুতি দিলেন এক যুবক। দিন দুই আগে হাওড়া সেতু থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। আর সেই রহস্যের মূলে আছে সোনা-হিরে এবং নগদ টাকার একটি ব্যাগ।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল, অবসাদেই আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক। কিন্তু ৬ মার্চ রবিবার ঝাঁপ দেওয়ার আগে যুবকটি তাঁর ব্যাগ রেখে গিয়েছিলেন সেতুর উপরেই। সেই ব্যাগে তিনটি সোনার বিস্কুট, চারটি হিরের আংটি এবং নগদ এক লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা পায় পুলিশ। এক-একটি বিস্কুটের ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম। পাওয়া যায় কলকাতার একটি হোটেলের ঘরের চাবিও। পুলিশ জেনেছে, ঝাঁপ দেওয়ার আগের দু’দিন যুবকটি ওই হোটেলে ছিলেন।

ব্যাগে পাওয়া পাসপোর্ট ও আধার কার্ড জানাচ্ছে, যুবকের নাম হীরেন পটেল (৩৫)। বাড়ি আমদাবাদে। কিন্তু কেন তিনি কলকাতায় এসে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন, তার আগে টাকা ও গয়নার ব্যাগ কেন বা কার জন্য সেতুতে রেখে দিলেন, সেই সব প্রশ্নের জবাব মেলেনি। ওই যুবকের দেহ মেলে সোমবার সকালে। ঠিকানা দেখে গুজরাত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমদাবাদে হীরেনের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়ে গুজরাত পুলিশ জানতে পারে, মাস তিনেক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। তাঁর আত্মীয়রা থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন।

সোমবার ময়না-তদন্ত হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার আমদাবাদ থেকে এসে ছেলের দেহ শনাক্ত করেন হীরেনের বাবা নবীন পটেল। রাতে নিমতলা শ্মশানে দেহ সৎকার করা হয়। পানমশলার ব্যবসা করতেন হীরেন। নবীনবাবু পুলিশকে জানান, মাসে বড়জোর ২৫ হাজার টাকা রোজগার করতেন হীরেন। তা হলে তাঁর ব্যাগে সোনার বিস্কুট, হিরের আংটি এবং লক্ষাধিক টাকা কী ভাবে এল, তা নিয়ে কলকাতা পুলিশ ধন্দে।

চোরাচালানের সঙ্গে হীরেনের যোগাযোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। কেননা এই ধরনের সোনার বিস্কুট সাধারণত ব্যবহার করা হয় চোরাচালানের জন্যই। হীরেনের দুরারোগ্য ব্যাধি ছিল বলে তাঁর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন। সেই ব্যাধিই আত্মহত্যার কারণ, নাকি চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ার জেরে এই পরিণতি, পুলিশ সেই বিষয়ে অন্ধকারে।

উপরে