আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৬ ১০:৪৬
ভারতের বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়

ফুরফুরা শরিফে আনাগোনা বাড়ছে রাজনৈতিক নেতাদের

অনলাইন ডেস্ক
ফুরফুরা শরিফে আনাগোনা বাড়ছে রাজনৈতিক নেতাদের

ভারতের বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। সংখ্যালঘু ভোটের টানে ফুরফুরা শরিফে আনাগোনাও বাড়ছে রাজনৈতিক নেতাদের। কিন্তু সংখ্যালঘু সমর্থন আদায়ের দৌড়ে অন্য দলের চেয়ে কি কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে শাসকদল? প্রশ্ন উঠছে। কারণ, শনিবার থেকে ধর্মীয় উৎসব উরস শুরু হলেও রবিবার রাত পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত হননি তৃণমূলের কোনও নেতা। অথচ ইতিমধ্যেই সেখানে হাজিরা দিয়েছেন কংগ্রেস এবং সিপিএমের নেতারা।
উৎসব শুরুর আগের দিনই অবশ্য ফুরফুরায় গিয়ে পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় এবং ফিরহাদ হাকিম। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তাঁরা। তবে সে সাক্ষাৎ খুব একটা মসৃণ হয়নি বলেই সূত্রের খবর। পরে সংখ্যালঘু বিষয়ক পত্রিকা ‘উদার আকাশে’র প্রকাশ অনুষ্ঠানে ওই বৈঠক প্রসঙ্গে মুকুল বলেছিলেন, “ফুরফুরার সঙ্গে যোগাযোগ দীর্ঘ ২০ বছরের। সেখানে গিয়েছিলাম। অনেক কথাই হয়েছে। রাজনীতির কথাও হয়েছে।” আর ত্বহার বক্তব্য ছিল, ‘‘ওঁরা (মুকুল, ফিরহাদ) এসেছিলেন। নির্বাচনে দলের জন্য দোয়া, সমর্থন চাইতে। ফুরফুরায় আসার ব্যাপারে সকলেই স্বাগত।’’
শাসকদলের সঙ্গে একসময় ফুরফুরার বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও অধুনা তাতে ফাটল ধরেছে। বছরখানেক আগেও বাৎসরিক উরস অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেতাদের অহরহ আনাগোনার ছবিটা পাল্টে গিয়ে এবার অনেকটাই ভাটার টান। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেসের জোটপন্থী নেতাদের রমরমাই চোখে পড়েছে এবারের উৎসবে। শনিবার ফুরফুরায় গিয়েছিলেন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী। এদিন হাজির হয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি ফুরফুরার পীর ইব্রাহিম সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করেন। পরে সাংবাদিকদের অধীর বলেন, ‘‘জোট নিয়ে কোনও জটিলতা নেই। প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের নির্বাচনে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছি।’’ ইব্রাহিমের বাম-কংগ্রেস ঘনিষ্ঠতা সুবিদিত। তবে এদিন ত্বহার সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। আজ, সোমবার ফুরফুরায় যাওয়ার কথা সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের। যাওয়ার কথা কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়ারও।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ত্বহাকে একমঞ্চে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর একাধিকবার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছিলেন। রাজ্যে সংখ্যালঘু উন্নয়নে তৃণমূলের সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিজের উষ্মা গোপন করেননি ত্বহা। এদিন ফুরফুরার পীরজাদা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, রাজ্যে সংখ্যালঘুদের সব উন্নয়নের কাজ হয়ে গিয়েছে। আমি বলছি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়তো কিছু হয়েছে, কিন্তু চাকরি এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সরকার বিশেষ কিছুই করেনি।’’
সূত্রের খবর, মুকুল, ফিরহাদের সঙ্গে বৈঠকে ত্বহা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব পর্যাপ্ত নয়। রাজ্যে শাসকদলের মধ্যে সঙ্ঘ পরিবারের লোক ঢুকে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ত্বহা। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও ফুরফুরার উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতাদের কাছেও ফুরফুরার পীরজাদা দাবি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রার্থী তালিকাতে যেন পর্যাপ্ত সংখ্যায় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব থাকে।
এক শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব কমছে। অন্য শিবিরের সঙ্গে বাড়ছে। জটিল হচ্ছে ভোট রাজনীতির অঙ্ক।   

উপরে