আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:০১
মহাসচিব বাছাই হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে

জাতিসংঘ মহাসচিব হতে পারবেন মহিলারা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ মহাসচিব হতে পারবেন মহিলারা!

অবশেষে 'গণতন্ত্র' আসছে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায়৷ আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই একজনের নাম ঠিক করা হত৷ যে নিয়মের বিরোধিতা করে এসেছে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ৷ সেই রীতি বাতিল হচ্ছে৷ প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ওই পদের প্রত্যেক প্রার্থীর সঙ্গে দু'ঘণ্টা ধরে কথাবার্তা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব চালাতে পারবেন জাতিসংঘের সদস্য সমস্ত দেশের প্রতিধিরা৷ তারই ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হবে বান-কি-মুনের উত্তরাধিকারীকে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরই৷ এই প্রথম, ওই পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন মহিলারাও৷ জাতিসংঘ এখনো পর্যন্ত কোনো মহিলা সেক্রেটারি জেনারেল পায়নি৷প্রতিষ্ঠার পর ৭০ বছর পার হওয়ার পর এই প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ সভার (জেনারেল অ্যাসেম্বলি) প্রেসিডেন্ট মোজেন্স লিকেটফ্ট ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এই নতুন নিয়মের ঘোষণা করেন৷ এই পদক্ষেপকে 'ঐতিহাসিক ও পট -পরিবর্তনকারী' আখ্যা দিয়েছেন তিনি৷ জানিয়েছেন, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে যাঁরা নাম জমা দেবেন, তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে কোনও 'আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই' ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলবেন তিনি৷ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব করা নামগুলিও ভোটাভুটির মাধ্যমে বাতিল করা যাবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিষদ নিজেদের পছন্দের লোকের নাম ঘোষণা না করে৷ তবে নিরাপত্তা পরিষদের এ রকম 'ভেটো' দেওয়ার পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না বলেই আশা মোজেন্সের৷ তাঁর বক্তব্য , সমস্ত সদস্য ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাউকে বেছে নিতে পারলে (সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদও বিনা আপত্তিতে সেই নামটি গ্রহণ করবে) সবচেয়ে ভালো৷ ওই পদে থাকার মেয়াদ পাঁচ বছর-সদস্যদের দাবিতে যা বাড়ানো যেতে পারে৷
পর্যবেক্ষকদের অনুমান, আন্তর্জাতিক নাগরিক সংগঠনগুলির চাপের ফলে কোনও মহিলাই বসতে চলেছেন জাতিসংঘের ওই সর্বোচ্চ পদে৷ ইতিমধ্যেই প্রার্থী হওয়া ছ 'জনের মধ্যে তিন জন মহিলা৷ ইরিনা বোকোভা (বুলগেরিয়ান , ইউনেস্কোর প্রধান, সংশ্লিষ্ট পদের প্রধান দাবিদারও বটে), ভেসনা পিউসিক (ক্রোয়েশিয়ার প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী), নাটালিয়া ঘারম্যান (মলডোভার কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী)৷ পুরুষ প্রার্থীরা হলেন এস কেরিম (ম্যাসিডোনিয়ার প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ইগর লাকসিক (মন্টেনেগ্রোর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী) এবং দানিলো টার্ক (স্লোভেনিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট)৷ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিকে পর্যায়ক্রমে সেক্রেটারি জেনারেল বেছে নেওয়ার রীতি জাতিসংঘে ১৯৬১ সাল থেকে রয়েছে৷ এশিয়ার বান-কি-মুনের পর এবার পূর্ব ইউরোপের (বিশেষত বুলগেরিয়া) কারও পালা, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ গত বছরই ভারত দাবি করেছিল, নিরাপত্তা পরিষদ একটি নাম ঘোষণার বদলে, প্রার্থীদের তালিকা পেশ করুক৷ যাঁদের মধ্যে একজনকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হোক৷

সূত্র: এই সময়

উপরে