আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:৩৭

পৃথিবীর সব জায়গায় বাড়লেও জাপানে জনসংখ্যা কমছে!

৫ বছরে কমেছে ১০ লাখ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পৃথিবীর সব জায়গায় বাড়লেও জাপানে জনসংখ্যা কমছে!

সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে জনসংখ্যা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে বাস করছে ৭১২ কোটি মানুষ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের সরকার গ্রহণ করছে নানা পদক্ষেপ। তবে এর মধ্যে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে জাপান। দেশটির সর্বশেষ আদমশুমারি অনুসারে, গত পাঁচ বছরে জাপানের প্রায় ১০ লাখ জনসংখ্যা কমেছে। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২০ সালের পর এই প্রথম কোনো আদমশুমারিতে জাপানের জনসংখ্যা হ্রাসের চিত্র উঠে আসলো। গত বছরের অক্টোবরে করা এই আদমশুমারিতে দেখা যায়, জাপানের বর্তমান জনসংখ্যা ১২ কোটি ৭১ লাখ, যা এর আগে করা আদমশুমারির চেয়ে ০.৭ শতাংশ কম। অর্থাৎ, ২০১০ সালের আদমশুমারির তুলনায় এ সংখ্যা ৯ লাখ ৪৭ হাজার কম। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, জন্মের হার ও দেশটিতে প্রবাসীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় জনসংখ্যায় এ ঋণাত্মক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সার্বিক হিসাবে জনসংখ্যা কমলেও রাজধানী টোকিওসহ আটটি শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে। তবে ফুকুশিমাসহ বাকি ৩৯টি শহরে মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। এসব শহরে গত পাঁচ বছরে ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ কমে গেছে।

এদিকে জাপানে বয়স্ক লোকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে স্বাস্থ্য খাতে জাপান সরকারের ব্যয়ও বেড়ে চলেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে।

ব্রিটশি গণমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই বিপর্যয় সামাল দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। এর আগে নারীপ্রতি সন্তান জন্মদানের হার ১ দশমিক ৪১ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৮ ভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয় ২০১২ সালে। ওই পরিকল্পনার অধীনে জাপানের জনসংখ্যা ১০০ মিলিয়নে ধরে রাখার জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জন্মহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই পরিকল্পনা তেমন কার্যকর নাও হতে পারে। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের প্রফেসর মাইকেল কুচেক বলেন, ‘এই পরিকল্পনা কাজ করবে না। কেননা, জনসংখ্যা ১০০ মিলিয়নে ধরে রাখতে হলে নারীপ্রতি সন্তানের হার ১ দশমিক ৮ হলে চলবে না, বরং ২ দশমিক ১ হতে হবে।’

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১০০ এর মধ্যে জাপানের জনসংখ্যা কমে যাবে আরো ৮৩ মিলিয়ন এবং ৩৫ শতাংশ নাগরিকেরই বয়স হবে কমপক্ষে ৬৫ বছর।

জনসংখ্যা সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে ২০১২ সালে ‘মিনিস্টার ফর হানড্রেড মিলিয়ন অ্যাকটিভ পিপল’ প্রকল্প নেয়েছে প্রধানমন্ত্রী সিনজো অ্যাবে সরকার। আইন প্রণেতা কাটসুনভো কাতোকে নতুন এ প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল জন্মহার ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৪১ শতাংশে উন্নিত করা।

উপরে