আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:২৬

আত্মহত্যার রহস্যময় বন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আত্মহত্যার রহস্যময় বন!

জাপানের ফুজি পাহাড়ের কাছে আওকিগাহারা বনে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ আত্মহত্যা করেন। জাপানের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা অনেক বেশি। এ বনের এসে জাপানিরা আত্মহত্যা করেন।

আওকিগাহারা বন থেকে প্রতি বছর পুলিশ অন্তত ১২ জন মানুষের মৃত দেহ উদ্ধার করে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ১৯৯০ সালে এ বনে ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন। ২০০৪ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ধারায় ১০৮ জনে। ২০১০ সালে ২৪৭ জন আত্মহত্যা চেষ্টা করেন। তার মধ্যে ৫৪ জন মারা যান।

বনের প্রবেশ পথে সুইসাইড প্রিভেনশন অ্যাসোসিয়েশন লিখে রেখেছে, ‘তোমার জীবন পিতা-মাতার কাছ থেকে মূল্যবান উপহার। তোমার পরিবার ও ভাইবোনের কথা একটু ভাবো। তাদের সঙ্গে তোমার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করো। দয়া করে আত্মহত্যা করার আগে পুলিশের পরামর্শ নাও।

আত্মহত্যা রহস্যময় এ বনে হলিউডের পরিচালক জ্যাসন জাদার ভৌতিক সিনেমায় অভিনয় করবেন নাটালি ডোরমার। সিনেমাটিতে সারা নামের এক আমেরিকান নারী তার বোনকে খুঁজতে যাবেন আওকিগাহারা বনে।

আওকিগাহারা বন সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। তারা বিশ্বাস করে, আওকিগাহারা বন ভূতের রাজ্য। এ বনের মধ্যে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। ফিরে আসলেও ভূত তার বাড়িতে এসে তাকে হত্যা করবে।

সিনেমা পরিচালক জ্যাসন জাদার বলেন, ‘জাপানে গিয়ে একজন গাইড নিয়ে বনের মধ্যে ঘুরতে যাই। বনের মধ্যে ঘুরে ফিরে আসার সময় জাপানি গাইড অদ্ভুত আবদার করেন।’ গাইড বলেন, ‘স্যার আপনার পিঠে আমি লবণ ঘষে দিই ও আামার পিঠে আপনি লবণ ঘষে দিন। জাপানি গাইড জানায়, তারা বিশ্বাস করে বনের মধ্যে কেউ গেলে ভূত তার বাসায় গিয়ে তাকে হত্যা করবে। পিঠে লবণ ঘষে ভূতের হাত থেকে বাঁচা যায়।,

ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার রোব গিলহোললি এ বন ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘ঝরাপাতার মধ্যে প্রায় ৫০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধের লাশ দেখতে পাই। তার পরনে ছিলো কালো জিন্স প্যান্ট। তার ঘন চুল মাটির সঙ্গে মিশে ধূসর হয়ে গেছে। তার পায়ে উলের মুজা ছিলো। তার গলা ছিলো খালি। লাশের পাশে বিষের ট্যাবলেট, খালি প্যাকেট ও বিষের খালি বোতল পড়ে ছিলো।

সিনেমার নায়িকা নাটালি ডোমার বলেন, ‘বনের কাছে গেলে তুমি চিন্তায় পড়ে যাবে। এ বনের মধ্যে গিয়ে অনেক মানুষ আর না ফেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাজার ব্যাপার হলো, জাপানি গাড়ি চালক বনের মধ্যে আধা ফুটও প্রবেশ করেননি। আমি বড়জোর পাঁচ ফুট গিয়েছিলাম।’

এ বনের মধ্যে অনেক মানুষের কঙ্কাল পড়ে আছে। বনের প্রবেশ পথে পরিত্যক্ত গাড়ির দেখা মিলবে। অনেকে গাড়ি রেখে বনের মধ্যে প্রেবেশ করেছে আর ফিরে আসেনি।

১৯৭১ সাল থেকে জাপান বনের পাশে টহল দিয়ে মানুষকে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। একজন হোটেল মালিকের দাবি, তিন দশকে তিনি ১৬০জন মানুষকে আত্মহত্যা করা থেকে বাঁচিয়েছেন।

২০১০ সালে জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়। এ বছর সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিশ্ব মন্দার প্রভাবে জাপানে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়, অনেকে দেউলিয়া হয়ে যায়; ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। নানা কারণে ওই বছর অনেক মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

জাপানের ওয়াতারু তুসুরুমি ‘কমপ্লিট ম্যানুয়াল অফ সুইসাইট’ নামে একটি বাই লেখেন। বইতে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা করার জন্য আওকিগাহারা বন উত্তম জায়গায়। কয়েকটি মৃতদেহের সঙ্গে বইটি পাওয়া গিয়েছিলো।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে