আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৪৫

জনসনের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার! ৫৬২ কোটি টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জনসনের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার! ৫৬২ কোটি টাকা জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৭২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। ৭৮.১১ টাকায় ডলার হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬২ কোটি ৩৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে এ ক্ষতিপূরণ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত বেবি পাউডার ও শাওয়ার অ্যান্ড শাওয়ার পণ্য দু’টি দীর্ঘ কয়েক দশক ব্যবহার করেছিলেন মৃত ওই নারী এবং এর সঙ্গে তার ক্যান্সারের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এই রায় দিয়েছেন আদালত।

মৃত জ্যাকলিন ফক্সের পরিবারের পক্ষের আইনজীবি ও আদালতের নথিপত্র সূত্রে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সোমবার রাতে রায় ঘোষণার সময় সেন্ট ল্যুইসের আদালতটিতে বিচারকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ মিলিয়ন ডলার (৭৮ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা) ও শাস্তিমূলক খেসারত হিসেবে ৬২ মিলিয়ন ডলার (৪৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা) জনসন অ্যান্ড জনসনকে জরিমানা করেন।

প্রসঙ্গত, জনসন অ্যান্ড জনসন নিজেদের পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে ট্যাল্কভিত্তিক পণ্যগুলো যে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতন করায় আগ্রহী নয় বলে কয়েক দশক ধরে অসংখ্যবার অভিযোগ উঠেছে। কেবল মিসৌরির আদালতটিতেই এরকম প্রায় হাজার খানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে, এছাড়া নিউ জার্সিতেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এরকম আরো দুইশ’ মামলা রয়েছে।

এ ধরনের মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের পক্ষে কোনো মার্কিন আদালতের এটাই প্রথম রায়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনসন অ্যান্ড জনসন এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রাহকের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেয়ে বড় কোনো দায় আমাদের কখনোই ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু আদালতের এ রায়ে আমরা হতাশ। জ্যাকুলিন ফক্সের পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তার জন্য আমরা সমব্যাথী। কিন্তু আমাদের এই প্রসাধন ট্যালক-ই দশকের পর দশক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়ে এসেছে।

মিসৌরির আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জরিমানার খাড়া থেকে পুরোপুরি বাঁচতে না পারলেও অর্থদণ্ডের পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্ট্যানফোর্ডের আইন বিভাগের অধ্যাপক নোরা ফ্রিম্যান এংস্ট্রম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে