আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০২:৩৮

রডে মাথা এফোঁড়-ওফোঁড়; তবু বেঁচে আছে ভারতীয় শ্রমিক!

বিডিটাইমস ডেস্ক
রডে মাথা এফোঁড়-ওফোঁড়; তবু বেঁচে আছে ভারতীয় শ্রমিক!

একটি সাত ফুটের লোহা ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় শ্রমিকের মাথার ঠিক মাঝ বরাবর এফোঁড়-ওফোঁড় করলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছে। তার নাম মোহাম্মাদ গুড্ডু।

মুম্বাইয়ের মালাদ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় গুড্ডু তখন সিমেন্ট মিশ্রন করছিলেন। আর ঠিক তখনই স্থাপনাটির একটি উঁচু তলা থেকে একটি রড অসাবধানতায় পড়ে যায়।

রডটি এমনভাবেই গুড্ডুর মাথাকে বিদ্ধ করেছে যে, এটি কপাল বরাবর ঢুকে, মাথার পেছন দিক দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। যদিও একটি সরকারী হাসপাতালে দীর্ঘ ৫ ঘন্টার এক অপারেশনের মাধ্যমে এ যাত্রায় বেঁচে গেছে গুড্ডু!

দুর্ঘটনার স্বাক্ষী তারই সহকর্মী বন্ধুরা, তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছে।

তাদের একজন জানায়, গুড্ডু ১৫ দিন আগেই কাজে যোগ দিয়েছিলো। সে তখন বিল্ডিং-এর অন্য এক পাশে কাজ করছিলো। তারপর হঠাৎই তারা গুড্ডুর আর্ত চিৎকার শুনতে পায়। দৌড়ে তার কাছে যাওয়ার পর সবাই অবাক হযে দেখে- একটি রড গুড্ডুর মাথাটিকে পুরোপুরি বিদ্ধ করে আটকে আছে। তার তখন চেতনা ছিলো এবং সাহায্য প্রার্থনা করছিলো!

গুড্ডুর বাবা জানায়, গুড্ডু খুব পরিশ্রমী। এমন দূর্ঘটনার পরও বেঁচে আছে বলে তারা সবাই খুব খুশি।

রডটিকে বের করে আনতে তার মাথার খুলিটিকেও বিভক্ত করতে হয়েছে চিকিৎসকদের। এই মহুর্তে গুড্ডু ভালো সারা দিচ্ছে। যদিও তার শরীরের বাম পাশটা এখনো অবশ! অবশ্য তার ডক্তার’রা আশা করছেন আর তিন মাসের মধ্যেই গুড্ডু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে।

স্নায়ুচিকিৎসক ড. বাটুক দায়োরা গুড্ডোকে বাঁচানোর মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এমন আঘাতের পরও ছেলেটি বেঁচে আছে, এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত।’

তিনি যোগ করেন, ‘এটা একটা জটিল অস্ত্রোপাচার ছিলো। তার বেঁচে যাওয়ার একটাই কারণ তা হলো একটি নিরাপদ এলাকা দিযে গুরুতর কোন ক্ষতি না করেই রডটি মাথার একদিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিযে বের হয়ে গিয়েছিলো।’

গুড্ডু এখন হাসপাতালেই অবস্থান করছে। আরও অন্তত দুই সপ্তাহ পর তাকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে