আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:২৯

উর্দুর জন্যই পাকিস্তানে এত বিভেদ: ইউনেস্কো

বিডিটাইমস ডেস্ক
উর্দুর জন্যই পাকিস্তানে এত বিভেদ: ইউনেস্কো

ভাষাই যত নষ্টের মূল! অন্তত পাকিস্তানের মতো দেশের পক্ষে তো বটেই! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এমনটাই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো। তাদের মতে, ভিন্ন ভাষাভাষী ও নানা জাতি-উপজাতি-নৃগোষ্ঠী সমৃদ্ধ পাকিস্তানে উর্দু ভাষার একচেটিয়া প্রাধান্য সে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য দায়ী।

৪০টি দেশের শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করে বোরবার একটি কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক, নেপাল, বাংলাদেশ, গুয়েতেমালার মতো দেশও রয়েছে ওই তালিকায়। দেশগুলির বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার পরে সওয়াল করা হয়েছে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাদানের বিষয়ে।

ইউনেস্কো জানিয়েছে, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার আট শতাংশেরও কম নাগরিক বাড়িতে উর্দুতে কথা বলেন। সে দেশে উর্দু ছাড়াও ছয়টি বৃহৎ এবং ৫৮টি ছোট ভাষাভাষী গোষ্ঠী আছে। কিন্তু, স্বাধীনতার পরে উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সরকারি ভাবে প্রাথমিক স্তরে বেশির ভাগ শিশুদের মাতৃভাষার বদলে শিক্ষার পাঠ শুরু হয় উর্দুতেই। আর এখান থেকেই বিভেদের শুরু বলে মত ইউনেস্কোর। শিক্ষাজীবনের শুরুতেই উর্দুভাষী শিশুদের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা দেখা দেয়। সামাজিক অসাম্যের সেটাই সূত্রপাত। এমনকী, ভাষার কারণে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উপর তাদের একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। পরে যা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে ওঠে।

আর এখানেই বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে আনা হয়। দেশভাগের পর তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হিসেবে ঘোষণার পরেই সে দেশের বাংলাভাষীরা প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। ১৯৫২-য় সেই প্রতিবাদই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ভিত গড়ে তোলে। পরে বাংলাই হয়ে ওঠে সে দেশের রাষ্ট্রভাষা। কাজেই ভাষার গুরুত্ব দেশগুলিকে আরও এক বার মনে করিয়ে দিয়েছে ইউনেস্কো। তাদের মতে, ভাষা খুব স্পর্শকাতর। মানুষকে যেমন মূল স্রোতের দিকে নিয়ে আসে সে, তেমনই সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় সেই ভাষাই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

 

উপরে