আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:০২

ক্রমেই ফুঁসে উঠছে ভারতীয় জাঠ’রা

বিডিটাইমস ডেস্ক
ক্রমেই ফুঁসে উঠছে ভারতীয় জাঠ’রা

গত ৪ দিন ধরে জাঠ বিক্ষোভের জেরে ফুটছে ভারতের হরিয়ানা। রোববারও হরিয়ানার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ ও সেনার গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাত এবং আহত হয়েছে আরো অন্তত ৮০জন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোহতক, হিসার এবং ভিওয়ানিতে আজও ফ্ল্যাগ মার্চ চালিয়েছে সেনারা। ঝাজ্জর, সোনপত, জিন্দ, হানসি ও গোহানাতে জারি রয়েছে কারফিউ। অবরুদ্ধ বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক। লাগাতার অবরোধের জেরে দিল্লি, হিসার, রোহতক ও ফজিলকা সড়কপথ বন্ধ থাকায় গতকাল রোহতকে ২০০ আধা সামরিক সেনাকে হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিল্লির সফদরজং ঘাঁটি থেকে দফায় দফায় সেনাকে ‘এয়ারলিফট’ করে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবারও হিংসাদীর্ণ হরিয়ানায় ৩৩০০ সেনা পাঠিয়েছিল কেন্দ্র থেকে।

জাঠ বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে রাজধানী দিল্লিতেও। গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে থাকা জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাঠ পড়ুয়ারা সংরক্ষণের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে বসেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ‘আমাদের উপর অবিচার করা হচ্ছে। বিজেপি সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমাদের এই পদক্ষেপ।’ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে।

হরিয়ানার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এদিন পৃথকভাবে বিষয়টি নিয়ে দলের জাঠ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী ও জাঠ নেতা চৌধুরি বীরেন্দ্র সিং, হরিয়ানার মন্ত্রী ও পি ধানকর এবং দলের সাধারণ সচিব তথা রাজ্য বিজেপির দায়িত্বে থাকা অনিল জৈন।

জাঠ-বিক্ষোভের গোটা ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক মদতপুষ্ট’ বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বীরেন্দ্র সিং এদিন দিল্লিতে বলেন, বিজেপি জাঠদের সংরক্ষণের পক্ষে। এক্ষেত্রে করণীয় সব কিছুই বিবেচনা করা হচেছ। তার আশ্বাস, এ নিয়ে কিছু একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক কারণে ২০১৪ সালে হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটের আগে সেখানকার ভূপেন্দ্র হুডা সরকার জাঠ সংরক্ষণের প্রশ্নে সায় দিয়েছিল। তারপর কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকার অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের আওতায় তাদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। কিন্তু মনমোহন সিং সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদন পেশ হয় সর্বোচ্চ আদালতে। যার পরই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, জাতের ভিত্তিতে ওবিসি কোটায় জাঠদের সংরক্ষণের ব্যবস্হা করা যাবে না। কারণ, সামাজিক অনগ্রসরতাই সংরক্ষণের একমাত্র মানদণ্ড। এক বিবৃতিতে খাট্টার জানিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া অন্যান্য শ্রেণির (ওবিসি) তালিকাভুক্ত করার জন্য জাঠদের দাবি তিনি ‘মেনে নিয়েছেন’। তবে তার বিবৃতির পরও অবশ্য বিক্ষোভ তুলে নিতে নারাজ জাঠরা। তাদের সাফ কথা, অর্ডিন্যান্স জারির পরই উঠবে বিক্ষোভ।

জিন্দ-পানিপথের বুধা খেরা ছাড়াও জুলানা, ঝাজ্জর-সহ মোট সাতটি রেল স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আটশোরও বেশি ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর মিলেছে রোহতক, হিসার, ঝাজ্জর, ভিওয়ানি, জিন্দ, কাইথাল এবং পানিপথ থেকে। মেহাম জেলায় থানা, পেট্রোল পাম্প, সরকারি ভবন ও ব্যাঙ্কোয়েট হলে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক মন্ত্রীর বাড়িতেও পাথরবৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনতার কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে