আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:২৯

ফেসবুকের কল্যাণে খুঁজে পেলেন মানিব্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফেসবুকের কল্যাণে খুঁজে পেলেন মানিব্যাগ
প্রসেনজিৎ সাহা (বাঁ দিকে), হারানো জিনিস ফিরে পেলেন আসিফ ইকবাল মোল্লা

চলতে ফিরতে অনেকেই তাদের গুরুত্বপূর্ন জিনিসপত্র হারান। খুব বেশি এগুলো খুঁজে পাওয়া যায় এমন রেকর্ড কমই আছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে কিছু জিনিজ খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। চলার পথে একদিন নিজের মানিব্যাগ হারিয়েছিলেন ভারতের এক যুবক। কিন্তু তার যে ফেসবুক নেই। তারপরও সেই ফেসবুকের কল্যাণেই ফিরে পেলেন মানিব্যাগ।

প্রোফাইল না থাকলেও ফেসবুক-এর সুবিধে বুঝলেন বছর তিরিশের যুবক আসিফ ইকবাল মোল্লা। পথে হারানো একগুচ্ছ দরকারি নথি ফিরে পেলেন ফেসবুক-সূত্রে। ‘হারাধন’ (মানিব্যাগ) ফিরল সমবয়সী আর এক যুবকের সহৃদয়তায় যিনি ফেসবুকে নিয়মিত।

আনন্দবাজার সূত্রে জানা যায় গত ১০ জানুয়ারি বর্ধমানের গলসি থানার পরাজ গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরবাইকে চেপে আসিফ যাচ্ছিলেন খড়্গপুর। দুপুরের খাওয়া সারতে থামেন বিষ্ণুপুরের মড়ার  গ্রামের একটি লাইন-হোটেলে। খাওয়া সেরে ফের যখন মোটরবাইকে চেপেছেন, টুক করে কখন যে পকেট থেকে মানিব্যাগ পড়ে গিয়েছে, টের পাননি। সেই মানিব্যাগে ছিল তাঁর ভোটার পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ একগুচ্ছ দরকারি নথি, নগদ প্রায় ১,২০০ টাকা।

আসিফ যখন বোঝেন মানিব্যাগ গায়েব, তখন গলসি থানায় জানান ঘটনাটা। তবে তা আসলে নতুন করে ওই সমস্ত নথির আবেদন করার জন্য। ‘হারাধন’ যে সশরীরে ফিরে আসবে, ভাবেননি দুঃস্বপ্নেও।

ঘটনা কিন্তু তেমনই হয়েছে। বিষ্ণুপুরের ছিন্নমস্তা রোডের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সাহাও ঘটনাচক্রে ১০ জানুয়ারি দুপুরে গিয়েছিলেন একই হোটেলে খেতে। বেরনোর পথে তাঁর চোখে পড়ে কালো রঙের মানিব্যাগটি। ভিতরের নথি থেকে মালিকেরও পরিচয় মেলে। আসিফের সন্ধানে সে রাতেই ফেসবুকে একটি ‘পোস্ট’ করেন প্রসেনজিৎ।

লাভ হয়নি। বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রের দোকানদার আসিফের ‘ফেসবুক প্রোফাইল’ নেই। আড্ডা যেটুকু দেন, তা পাড়ার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। সেই সুবাদেই আর খোলা হয়নি ‘অ্যাকাউন্ট’। তবে প্রসেনজিতের করা ‘পোস্ট’ ‘নিউজ ফিড’-এ দেখে গলসির এক বাসিন্দা যোগাযোগ করেন পরাজ গ্রামে তাঁর এক ‘ফ্রেন্ড’-এর সঙ্গে। তিনি আবার আসিফের পরিচিত। সেই সূত্রে শুক্রবার মানিব্যাগ ফিরল মালিকের কাছে।

পেশায় গৃহশিক্ষক প্রসেনজিৎ সাহা অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন ‘ফেসবুক’কে। বলছেন, ‘‘সাধারণ নাগরিকের কাজটুকু করেছি। একটা পোস্ট করেছি বই তো নয়। অনেক সময়েই ফেসবুকে দেখি, ওটা হারিয়েছে, তাকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে—এমন সব পোস্ট। আমার পোস্টের দৌলতে যোগাযোগটা হয়েছে, এটাই বড় কথা।’’

‘‘প্রসেনজিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই’’, বলছেন আসিফ। আর ‘ফেসবুক’? আসিফের জবাব, ‘‘আজই অ্যাকাউন্ট খুলব। বন্ধু পাওয়ার সহজ উপায়। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর রাস্তাটা শিখে নেব প্রসেনজিতের কাছ থেকে।’’

উপরে