আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:৫৩

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ছাত্র গ্রেপ্তার; বিক্ষোভে অচল ভারতের ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ছাত্র গ্রেপ্তার; বিক্ষোভে অচল ভারতের ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কন্যাকুমার (২৮) নামের এক বামপন্থী ছাত্র নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিগত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই ছাত্র বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে ভারতের কমপক্ষে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক ও শিক্ষকরা।

২০০১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে হামলার দায়ে ২০১৩ সালে ফাঁসি দেয়া হয় কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা মো. আফজাল গুরুকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত সপ্তাহে বক্তব্য রাখেন বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কন্যাকুমার । এ জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কন্যাকুমারকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২৫ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় ছাত্রবিক্ষোভ চলছে। আফজাল গুরুর ফাঁসি নিয়ে শুধু প্রশ্নই তোলেন নি কন্যাকুমার, একই সঙ্গে কাশ্মিরী এই নেতার ফাঁসির বার্ষিকী উপলক্ষে একটি র‌্যালিও আয়োজন করেছিলেন তিনি।

সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হচ্ছে নয়া দিল্লির অভিজাত জওয়াহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ ক্লাস বর্জন করেছেন। ব্যারিকেড বসানো হয়েছে রাস্তায়। এতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে।

এ বিষয়ে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনের দিল্লি ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহিলা পারভিন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কথা সরকার শুনতে চায় না। ছাত্ররা কি ভাববে, কি বুঝবে এবং কি বলবে সে বিষয়ে তারা নির্দেশনা দিতে চায়।

কন্যাকুমারের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী নরেন্দ্র মোদি সরকার ও বাম ঘরানাদের মধ্যে আদর্শগত লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে কন্যাকুমারকে ভারত বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যরা।

বিজেপির এক এমপি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেয়া উচিত।

দলীয় সদর দপ্তরে মোদির ঘনিষ্ঠ, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিই তা দেশকে রক্ষার জন্য। ভারত বিরোধী কোন তৎপরতা সহ্য করা হবে না।

ওদিকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয় আটক ছাত্রনেতা কন্যাকুমার (২৮)কে। তখন নয়া দিল্লির আদালতকক্ষে আইনজীবি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে।

বিজেপি ঘরানার এক ছাত্রনেতা বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে দেশের ক্ষতি করা যাবে না। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ শর্মা বলেন, যদি আপনি একজন সন্ত্রাসীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন তাহলে তো আপনি ভারতীয় নন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে