আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:১৮

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা দরিদ্র এবং বঞ্চিত: অমর্ত্য সেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা দরিদ্র এবং বঞ্চিত: অমর্ত্য সেন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দরিদ্র এবং বঞ্চিত মানুষদের বেশিরভাগই মুসলিম।

রোববার (১৪ফেব্রুয়ারি) কোলকাতার গোর্কি সদনে অ্যাসোসিয়েশন স্ন্যাপ, গাইডেন্স গিল্ড এবং প্রতীচী ট্রাস্ট-এর তৈরি ‘পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের জীবনের বাস্তবতা: সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অমর্ত্য সেন বলেন, ‘বাঙালি মুসলিমদের যে কতটা বঞ্চনা সহ্য করতে হয়, তা কেবল বহুমাত্রিক পাঠের মাধ্যমেই বোঝা যায়।’

তিনি আরো বলেন,‘ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের দরিদ্র এবং বঞ্চিত মানুষদের সিংহভাগই মুসলিম। জীবন মানের নিরিখে তারা অসমঞ্জস্যভাবে দরিদ্র এবং বঞ্চিততর।’

অমর্ত্য সেন বলেন, ‘শুধু বঞ্চনাই নয়, মুসলিমদের বেঁচে থাকা বা জীবন জীবিকা নির্বাহ করাও এ রাজ্যে যথেষ্ট কষ্টকর। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, সেই তুলনায় উত্তর প্রদেশ বা কেরলে তাদের বেঁচে থাকা তুলনামুলকভাবে ভালো।’

সমীক্ষা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে , পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এখানে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র যে পরিমাণে থাকার কথা তা নেই। রাজ্যে ৩৪১ টি ব্লকের মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬৫ টি ব্লকেও অন্যদের তুলনায় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ।

২০০৫ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকারের উদ্যোগে গঠিত বিচারপতি রাজিন্দর সাচার কমিটির রিপোর্টে মুসলিমদের বেহাল দশার কথা ফুটে উঠেছিল। এ নিয়ে সেই সময় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

কার্যত সেই রিপোর্টকে অস্ত্র করেই রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মুসলিমদের চরম বঞ্চনা করেছে বলে প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি সভায় মুসলিমদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও অমর্ত্য সেন কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে মুসলিমদের বঞ্চনা এবং দারিদ্রতার কথাই স্পষ্ট হয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ এমপি ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

‘স্ন্যাপ’(SNAP)-এর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গাইডেন্স গিল্ড এবং প্রতীচী ট্রাস্টের সহযোগিতায় ২০১১ সালে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাসোসিয়েশন স্ন্যাপ।

রাজ্যের ১৯ টি জেলার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মোট ৯৭ হাজার বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ চার বছর ধরে দুই দফায় এই সমীক্ষা চালানোর পরে তা পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে