আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:১৪

রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ ভারত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

বিডিটাইমস ডেস্ক
রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ ভারত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন দিল্লির জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ চলছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা।

জেএনইউ ক্যাম্পাসে কাশ্মীরী জঙ্গিদের পক্ষে প্রকাশ্যে শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই ভারতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সপ্তাহখানিক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমিতির প্রেসিডেন্ট কানহাইয়া কুমারকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেই আটক নিয়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষ ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন যে ছাত্র বিক্ষোভ চলছে, সে প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিং বলেন জেএনইউতে দেশ-বিরোধী তৎপরতা চলছে।

মি সিং বলেন, ‘দেশকে এই বাস্তবতাটা বুঝতে হবে যে লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সাঈদেরও জেএনইউয়ের ঘটনায় সমর্থন ছিল। দেশের সব রাজনৈতিক দলের উচিত এর বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ করা – কারণ দেশের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হতে পারে না।’

ভারতে বামপন্থী ও উদার চিন্তাধারার সবচেয়ে বড় পীঠস্থান বলে পরিচিত জেএনইউ ক্যাম্পাসে ২০০১ তে ভারতীয় পার্লামেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফাঁসি-হওয়া আফজাল গুরুর সমর্থনে প্রকাশ্যে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে --এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করছে, ওই ভিডিওতে যেভাবে কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে এবং ‘ঘরে ঘরে আরও আফজাল গুরু জন্মাবে’ বলে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে – তারপর ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে দিল্লি পুলিশ কোনও ভুল করেনি।

ওই ভিডিওতে উমর খালিদ-সহ জেএনইউ-র কয়েকজন ছাত্রকে চিহ্নিতও করা হয়েছে, এবং ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে, যিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টও।

তবে ক্যাম্পাসের বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, এই ভিডিও তাদের ফাঁসানোর জন্যও তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে – কারণ ওই ছবিতে এমন বেশ কিছু ছাত্রকে ভারত-বিরোধী শ্লোগান দিতে দেখা গেছে যারা বিজেপির ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পরিচিত সদস্য বলেই তাদের দাবি।

একই সন্দেহ প্রকাশ করে বামপন্থী দল সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও বলেছেন ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটা জাল কি না, আগে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল।

তার বক্তব্য, ‘যেহেতু সেখানে বিজেপির ছাত্র শাখারও বেশ কিছু মুখ দেখা যাচ্ছে তাই গোটা ব্যাপারটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে কি না সেটা দেখতে হবে। মাত্র দু-সপ্তাহ আগে জেএনইউ-তে বিজেপি তাদের নিজের লোককে উপাচার্য করে এনে বসিয়েছে – তারপরই হয়তো ব্যাপারটা এভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ক্যাম্পাসে হস্তক্ষেপ করার পথ প্রশস্ত হতে পারে।’

এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিরোধী রাজনীতিকদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে।

কানহাইয়া কুমারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে যে ছাত্ররা আন্দোলন করছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীও।

সেখানে ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার বুঝতে পারছে না তোমাদের গুঁড়িয়ে দিতে গিয়ে তোমাদেরই তারা আরও শক্তিশালী করে তুলছে। দেশ-বিরোধী ছাত্ররা নয়, বরং যারা তাদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চায় দেশ-বিরোধী তারাই।’

বিরোধীদের এই সম্মিলিত চাপের মুখেও সরকার কিন্তু এখনও তাদের অবস্থানে অনড়। এমনকী, ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভার দিল্লি পুলিশ এখন তাদের সন্ত্রাস-দমন শাখার হাতেও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

উপরে