আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২৩:০১

এ কেমন মানবতা? ডাইনি সন্দেহে না খাইয়ে মারছে শিশুদের

বিডিটাইমস ডেস্ক
এ কেমন মানবতা? ডাইনি সন্দেহে না খাইয়ে মারছে শিশুদের
হোপের পাশে দাড়িয়েছেন আনজা

একরত্তি শিশু, নাম তার হোপ। সে নাকি ডাইনি! ভাবা যায়! এ জন্যই দিনের পর দিন খেতে দেওয়া হয়নি হোপকে। হোপ একটা উদাহরণ। এরকম অনেক হোপের জীবন এখন অন্ধকারে। হোপের অর্থ ‘আশা’। যে পরিবেশে হোপের মতো শিশুরা এখন রয়েছে, সেই পরিবেশে ভালভাবে জীবনযাপনের ‘আশা’ কি আর করা যায়? 
করা যায় না। কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে না পর্যন্ত। এমন দুঃসময়ে বাচ্চা ছেলেটির সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন আনজা রিংগ্রেন লোভেন। আফ্রিকান চিলড্রেনস এইড এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। নাইজেরিয়ার বাস্তবিক ছবিটা তিনি তুলে ধরেছেন। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক ছবি তুলে ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন নাইজেরিয়ার বাস্তব ছবি। আনজা লিখেছেন, ‘গত তিন বছরে আমি নাইজেরিয়ার অনেক কিছু দেখেছি।’’
নাইজেরিয়ার অধিকাংশ শিশুর অবস্থা এখন হোপের মতো। শৈশব তাদের হারিয়ে গিয়েছে কোন সুদূরে। ডাইনি সন্দেহে তাদের উপরে চলেছে পাশবিক অত্যাচার। এই না কি ২০১৬-র পৃথিবীর চেহারা! আনজা লিখছেন, ‘‘এই ফুটেজই তো প্রমাণ করছে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নাইজেরিয়ায়। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।’’ লড়ছেন তিনি। তাঁর যাবতীয় সঞ্চয় খরচ করে অন্যায়, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন আনজা। শিশুদের মুখে খাবার তুলে ধরার জন্য দেশের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত করে বেড়াচ্ছেন। অবস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন শৈশব হারানো শিশুদের।

সত্যি সত্যিই হোপের মতো শিশুদের দিন আর বদলাচ্ছে না নাইজেরিয়ায়। খেতে পাচ্ছে না তারা। থুড়ি, তাদের খেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিলে তিলে তাদের পাঠানো হচ্ছে মৃত্যুর দেশে। ডাইনি সন্দেহে হোপের মতো শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই কি নাম মানবতা?

উপরে