আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:২২

বাড়িতে আসুন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করুন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাড়িতে আসুন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করুন!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে মেয়েদের উত্যক্ত করার কথা হর-হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু কখনও কি শুনেছেন নিজের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করার কথা বলেছেন খোদ মেয়েটির জন্মদাত্রী মা? শুধু ধর্ষণের কথা বলেই থেমে যাননি এই মা, রীতিমত পয়সা খরচ করে অনলাইনে ঘটা করে বিজ্ঞাপনও দিয়েছেন।

আশ্চর্য শোনালেও এমনটাই ঘটেছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। একটি মার্কিন বিজ্ঞাপন সংস্থার অনলাইন সংস্করণে এমন চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন শিশুকন্যাটির মা। বিজ্ঞাপনের ভাষাটা ঠিক এমন, “আসুন আমার বাড়িতে। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করুন।” যার জন্যে এমন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে তার বয়স কত জানেন? মাত্র বছর ছয়েক।

এমন বিজ্ঞাপনের কারণে অবশ্য জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে ওই মহিলাকে। মার্কিন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৬ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মহিলার স্বামীও।

ওয়াশিংটনের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের ওই মহিলা মেয়েকে ধর্ষণ করার জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। ক্রেতাদের যেন কোনও অসুবিধে না হয় তার জন্য তাঁদের মেরিসভিল অঞ্চলে নিজেদের বাড়িতেই আসতে বলেন ওই মহিলা।

নির্ধারিত দিনে কয়েক জন খদ্দেরও হাজির হন মহিলার মেরিসভিলের ওই বাড়িতে। মেয়ের কান্না, অনুরোধ কোনও কিছুই টলাতে পারেনি মায়ের মন। বিভিন্ন বয়সের অচেনা পুরুষের সঙ্গে বছর ছয়েকের ওই মেয়েটিকে রীতিমত বাধ্য করা হত যৌন সঙ্গম করতে।

শারীরিক অত্যাচারে যখন বিধ্বস্ত শিশুটি তখনও রেহাই মিলত না তার। কেন না তার মা তখন ব্যস্ত থাকতেন মেয়ের ধর্ষণের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে। অনেক দিন ধরেই চলছিল এমন নারকীয় ঘটনা।

বছর দুয়েক আগে এক দিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পর্নগ্রাফির সিডিও উদ্ধার করে পুলিশ।

সিডি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ কর্মকর্তাদের। অন্য কেউ নয় সঙ্গমের দৃশ্যগুলি ক্যামেরাবন্দি করেছেন নাবালিকা শিশুটির মা নিজেই!

জঘন্য এই অপকর্মের জন্য ওই মহিলার ২৬ বছরের জেল হয়েছে। বাদ যাননি মহিলার স্বামীও। তাঁর ২৭ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন আদালত।

নাবালিকা ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, প্ররোচনা দেওয়া এবং নাবালিকার উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনাকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করার অপরাধে ওই মহিলাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বাবা-মা দুইজনই জেলে তাই আপাতত একটি সেফ হোমে ঠাঁই হয়েছে মেয়েটির এবং তার দাদার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে