আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩১

১৮ হাজারের অধিক বাংলাদেশী শরণার্থী ইউরোপে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ হাজারের অধিক বাংলাদেশী শরণার্থী ইউরোপে!

শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বেশ কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীও ইউরোপে গেছেন গত এক বছরে। ২০১৪ অক্টোবর থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে গেছেন। এদের মধ্যে ১৮ হাজার ৩০০ বাংলাদেশী রয়েছেন। যারা ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সংখ্যার দিকে দিয়ে বাংলাদেশীদের স্থান ১০ নম্বরে ।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রোববার (০৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

২০১৪ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করছে ইউরোপ।

সাময়িকীটি জানায়, ওই এক বছরে মধ্যে সিরিয়া থেকে আসা সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০ নাগরিক ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ আফগানিস্তান। ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭০ আফগান নাগরিক ইউরোপে বসবাসের জন্য আবেদন করেছেন।

এছাড়া ইরাকের ১ লাখ ৩ হাজার ৬২০ জন, কসোভোর ৯৩ হাজার ২৬০ জন, আলবেনিয়ার ৬৪ হাজার ৬৩৫ জন, ইরিত্রিয়ার ৪৬ হাজার ৯৬৫ জন, পাকিস্তানের ৪৪ হাজার ৯৩০ জন, সার্বিয়ার ৩৫ হাজার ৪৫০ জন, গাম্বিয়ার ১৩ হাজার ৯৮৫ জন ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করেন।

১৮ হাজার ৩৩৫ জন আবেদনকারী রাষ্ট্রহীন এবং ১৭ হাজার ৯৫৫ জনের নাগরিকত্ব জানা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিই জার্মানিতে থাকার আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি শরণার্থীর আশ্রয়ও দিয়েছে দেশটি। এরপরই আছে সুইডেন। বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি আবেদন গ্রহণ করে দেশ দুটি। এর পরেই আছে ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ।

সিরিয়া, ইরাক, ইরিত্রিয়া ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনই গ্রহণ করা হয়েছে বেশি। আলবেনিয়া, কসোভো ও সার্বিয়ার মতো দেশগুলো থেকে অর্থনৈতিক অভিবাসীদের আবেদন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

শরণার্থীদের অধিকাংশ যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে।

বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ। এছাড়া শরণার্থী হিসেবে ইউরোপে প্রবেশ করে অনেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে পারে এমন শঙ্কায়ও ভীত পুরো ইউরোপ। তাই যেসব দেশ বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে, সেসব দেশের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে