আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:০২

জিকা’র ভয়ে চুমু নিষিদ্ধ ব্রাজিল কার্নিভালে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জিকা’র ভয়ে চুমু নিষিদ্ধ ব্রাজিল কার্নিভালে!

ব্রাজিলের কার্নিভাল মানেই নাচগানের পাশাপাশি চুমু খাওয়ারও উৎসব। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নয়, এই উৎসবে অচেনা লোককেও চুমু খাওয়া যায়। তাই চিন্তায় পড়েছে ব্রাজিল সরকার। যদিও জিকার আতঙ্ক ভুলে পাঁচ দিনের জন্য কার্নিভালে মেতে উঠতে চলেছে ব্রাজিল। তবে প্রেসিডেন্টের আর্জি, 'দয়া করে অন্তঃসত্ত্বারা কাউকে চুমু খাবেন না।'

গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন শুধুমাত্র মশার কামড়ই নয়, যৌনমিলন এবং রক্তের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে জিকা ভাইরাস। সম্প্রতি দুজন রোগীর লালা এবং মূত্র পরীক্ষা করে পাওয়া গিয়েছে ওই ভাইরাস। আর তাতেই কপালে ভাঁজ পড়ে গিয়েছে গবেষকদের। কারণ, লালার মাধ্যমে সংক্রমণ হলে চুমু খেলেও ছড়াবে জিকা। অচেনা জিকা রোগীকে চুমু খেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই দেশের প্রেসিডেন্টের আবেদন, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা পারতপক্ষে ভিড়ে বেরোবেন না। আর কাউকে চুমু খাবেন না।

এই ভয়ংকর রোগটি অবশ্য শুধু ব্রাজিলে আটকে নেই। শনিবার স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, কলম্বিয়া থেকে সদ্য দেশে ফেরা এক নারীর দেহে জিকা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা। কলম্বিয়ায় থাকাকালীনই ওই রোগে নারী আক্রান্ত হন বলে মনে করছেন স্পেনের চিকিৎসকরা। ইউরোপে এই প্রথম জিকা-আক্রান্তের খোঁজ মিলল। স্পেনের আরও সাতজন জিকায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শনিবারই জিকায় আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া প্রশাসন। সে দেশের 'ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট'-এর তরফে জানানো হয়েছে, জিকায় আক্রান্ত হওয়ার পরে ওই তিন জন 'গুলেন-বার সিনড্রোম' নামের এক বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই রোগে স্নায়ুতন্ত্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে রোগী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকী ব্রেন ডেথ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। যেমনটা ঘটেছে ওই তিনজনের ক্ষেত্রে। তাই জিকা কেবল অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ভয়ংকর, আর বাকিদের ক্ষেত্রে নিরীহ সর্দি-জ্বর- এই তত্ত্ব মিথ্যা প্রমাণিত হতে চলেছে বলেই মনে করছেন কলম্বিয়ার 'ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট'-এর চিকিৎসকরা।

উপরে