আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:০৯
মুরুদ সমুদ্র সৈকত ট্রাজেডি

সেলফি নেশাতেই ভেসে যায় শিক্ষার্থীরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সেলফি নেশাতেই ভেসে যায় শিক্ষার্থীরা!

সমুদ্রে ঢেউয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা হবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তাঁরা। সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) পুণের কলেজ থেকে মহারাষ্ট্রের মুরুদ সমুদ্র সৈকতে পিকনিক করতে এসেছিলেন কলেজটির ১১৬ জন ছাত্র-ছাত্রী  এবং ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার একটি দল। সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নেমে জোয়ারের টানে ভেসে যান এদের অনেকে।

এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু দেহ উদ্ধার হয়েছে। অন্য ছাত্র এবং স্থানীয়দের কয়েক জনের প্রচেষ্টায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬ জনকে। তাদের মধ্যে চার জন ছেলে এবং দু’জন মেয়ে। তাদের চোখেমুখে আতঙ্ক ছাপ স্পষ্ট।

এক ছাত্রী কোন মতে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন, ‘‘ভগবান করুণা করুন, আমার সব বন্ধুরা যেন বেঁচে যায়। পিকনিকটা এত খারাপ হবে ভাবিনি। সারা জীবন এই ঘটনা ভুলতে পারব না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।’’

কী হয়েছিল সে দিন? প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্রের কথায়, কম্পিউটার সায়েন্সের (বিএসসি) প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা মিলে তিনটি বাসে চেপে  ১১টা নাগাদ মুরুদ পৌঁছই আমরা। তার পরেই অনেকে সমুদ্রে নামতে চেয়েছিল কিন্তু অধ্যাপকেরা বললেন আগে চারপাশটা ঘুরে নিতে।

সৈকতে ফিরলাম তখন বেলা ২টা বাজে। ঠিক করলাম সমুদ্রে নামব। আমাদের ক্লাস তো বটেই অন্যান্য ক্লাস থেকেও বেশ কয়েকটা গ্রুপ সমুদ্রে নেমে হুটোপাটি করতে শুরু করল।

প্রায় সাড়ে ৩ টা নাগাদ দুপুরের খাওয়ার ডাক পড়লো। অনেকেই বাসের কাছে চলে গেল টিফিন বাক্স নিয়ে আসতে। আবার অনেকে তখনও সমুদ্র থেকে উঠে আসতে চাইছিল না।

বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতেও ব্যস্ত ছিল অনেকে। হঠাৎ বড় বড় ঢেউ উঠতে শুরু করল। আচমকা তেমনই একটা বড় ঢেউ বেশ কয়েক জনকে টেনে নিয়ে গেল সমুদ্রের ভিতরে।

আপ্রাণ হাত-পা ছুড়ছিল ওরা। কলেজের অন্য যারা কাছাকাছি ছিল তারা ওদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ৬ জনকে টেনে তটে আনা গেলেও বাকিরা ততক্ষণে তলিয়ে গিয়েছে।

যাদের উদ্ধার করা হল তাদের ঘোড়ার গাড়ি, হাতে টানা গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় কোনও মতে।

স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ রাজনকারও বললেন প্রায় একই কথা। তিনি বলেন, একশোরও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং কয়েক জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তিনটি বাসে করে এসে পৌঁছায়। প্রথমে তাঁরা হোটেলে ঢোকে, তার পরে তোসালকর ওয়াদি ঘুরে দেখেন। ৩টা নাগাদ ফিরে কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী সমুদ্রে নামে। তখন জোয়ার আসার সময়। আমরা তো বটেই, শিক্ষকেরাও ওদের সমুদ্রে নামতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু কেউ কথা শুনল না।

চারটে নাগাদ হঠাৎ আর্তচিৎকার। ওদের বন্ধুরাও তত ক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক এক জনকে টেনে পাড়ে আনার চেষ্টা করছে। কয়েক জন মৎস্যজীবীও সেখানে ছিলেন। তাঁরাও নৌকা নিয়ে উদ্ধারের কাজে নেমে পড়েন। সকলের সম্মিলিত তৎপরতায় ৬ জনকে উদ্ধার হয়।

পুণের কলেজের সহ-অধ্যক্ষ শৈলজা বুটওয়ালা বলেন, ‘‘আমরা শোকস্তব্ধ। ঘটনাস্থলে ৩০ জন কর্মী এবং ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারের কাজ চলছে।’’

কলেজটির সভাপতি সমুদ্র সৈকতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড না থাকার সমালোচনা করে বলেন, সমুদ্রতটে যথেষ্ট সংখ্যায় লাইফগার্ড থাকলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না।

তবে অভিভাবক ও ছাত্র সংগঠনগুলো দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারপার্সন এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে