আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:৩৫

গাঁজা চাষেই যাদের জীবন চলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাঁজা চাষেই যাদের জীবন চলে

ভারতের হিমালয়ার গহীনে ছোট ছোট কয়েকটি গ্রাম। গ্রামগুলো এতটাই দুর্গম যে, ওই গ্রামে একবার গিয়ে ফিরে আসতে আপনার দিন পার । হিমালয়ের ৯ হাজার ফুট ওপরের এমনই একটি গ্রামজুড়ে হচ্ছে গাঁজার চাষ।

এখানকার গ্রামগুলো এতটাই প্রত্যন্ত যে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অবৈধ চাষ বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। ভারতে গাঁজা অবৈধ হলেও এসব গ্রামের দরিদ্ররা গাঁজা চাষের মাধ্যমে কিছু আর্থিক উন্নতি সাধন করতে পারছেন।

বরফপূর্ণ এই পাহাড়ি অঞ্চলে জীবন চলে প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে। পাহাড়ের গায়ে রং বেরংয়ের বাড়ি বানান গ্রামবাসীরা। আছে পুরনো মন্দির, কয়েকটি দোকান। সেখানে সাবান, সিগারেট, চাল, ময়দা বিক্রি হয়।

গাঁজা মাড়াইয়ের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাঁজা পাতা কর্ষনের মাধ্যমে চরস তৈরি করা হয়। এটা এক ধরনের হাসিস(এক প্রকারের গাজা) যা পৃথিবীর অন্যতম সেরা মানের বলে মনে করা হয়। পশ্চিমে এসব গ্রামের তৈরি হাসিস ১ গ্রাম প্রায় ১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।পৃথিবীতে ক্রমশ চরসের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাঁজার প্রায় ৫০টি কুঁড়ি ব্যবহার করে ১০ গ্রাম চরস তৈরি করা সম্ভব।

হিমলয়ার এ অঞ্চলে ধ্যান করতে যে সাধু এবং পূণ্যার্থীরা আসতেন তারাই প্রথম চরস তৈরি করেন। ১৯৭০-এর দশকে এক দল হিপ্পি পাহাড়ি পথে সাধুদের অনুসরণ করে। তাদের থেকেই হিপ্পিরা চরস বানানো শিখেছে। তারা একই পদ্ধতিতে চরস বানাচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই অঞ্চলে গাঁজা অতি পরিচিত একটি গাছ। এর উৎপাদনকারী হিসাবে নির্দিষ্ট কাউকে শনাক্ত করা দুষ্কর। চরস উৎপাদন এখানকার হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা। এখানে থেকে ভারতের বড় বড় শহর এবং বিদেশিদের কাছেও চরস বিক্রি করা হয়।

ভারতে গাঁজার ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যাবে হাজার বছর আগে। পবিত্র ভেদা গ্রন্থেও এর কথা লেখা রয়েছে। বলা হয়, দেবতা শিব পাহাড়ে ধ্যানে বসতেন এবং গাঁজার ফুল খেয়ে বাঁচতেন। এখন গ্রামবাসীরা জীবিকা নির্বাহের জন্যে এর চাষ করেন।

এখানকার মানুষ এমন এক অঞ্চলে থাকেন যেখানে কর্মনির্বাহের ভিন্ন ভিন্ন উপায় নেই বললেই চলে। অধিকাংশ কৃষক তার জীবনে বৈধ কিছু কোনদিনই চাষ করেননি। তবে যাই চাষ করেন তা আধ্যাত্মবাদ আর ধর্মীয় পবিত্রতায় মিশে রয়েছে।

১৯৬১ সালে ‘ইউএস সিঙ্গেল কনভেনশন অন নারকটিস ড্রাগস’ এ যেসব দেশ যোগ দেয়, তাদের মধ্যে ছিল ভারত। কিন্তু অনেকেই গাঁজাকে 'না' বলতে রাজি ছিলেন না। কারণ তা ধর্মের পবিত্রতায় জড়িত। তবে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আইনের মাধ্যমে গাঁজাকে অবৈধ ঘোষণা করে ভারত ১৯৮৫ সালে।

ভারতের সাবেক নারকোটিকস কমিশনার রমেশ ভট্টাচার্য জানান, দেশটির ৬৪০টি জেলার মধ্যে ৪০০ জেলাতেই গাঁজার চাষ হয়। ১৯৮৫ সাল থেকে জাতিসংঘের নারকোটিকস বিষয়ক নীতিমালার দাস বনে রয়েছে ভারত। কিন্তু তা বন্ধ করা যায়নি। করা সম্ভবও না।

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 

বিডিটাইমস৩৬৫.কম/আকাশ

উপরে